গরমে বিদ্যুতে লোডশেডিং ও গ্যাসে ঘাটতি বৃদ্ধির আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক: দেশে জ্বালানি গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই আসছে সেচ মৌসুম, রমজান এবং গরমকাল। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়বে বিদ্যুতের চাহিদা। কিন্তু বিদ্যুেকন্দ্র থাকলেও জ্বালানির অভাবে সেগুলোর সক্ষমতার অনেকখানিই থাকবে অব্যবহূত। বিদ্যুতের চাহিদার সঙ্গে বাড়বে গ্যাসের চাহিদাও। ফলে এবারও গরমে বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যুত্ বিভাগ ও পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, দেশে বিদ্যুেকন্দ্রগুলোতে উত্পাদিত বিদ্যুতের একক ক্রেতা বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। পিডিবি থেকে বিদ্যুত্ পাইকারি মূল্যে কিনে নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে খুচরা দামে বিতরণ করে বিতরণ সংস্থা-কোম্পানিগুলো। অপেক্ষাকৃত বেশি দামে বিদ্যুত্ কিনে কম দামে বিক্রি করায় বিপুল দেনায় পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। দেনা পরিশোধ করতে সরকারের কাছে পিডিবি ৩৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। চাহিদার পুরো টাকা পাওয়া প্রায় অসম্ভব বলে জানিয়েছেন বিদ্যুত্ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এদিকে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জন্য চাহিদানুযায়ী বিদ্যুত্ দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। আবার অর্থ সংকটের কারণে বিকল্প তেলচালিত এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতেও পর্যাপ্ত বিদ্যুত্ উত্পাদন করা সম্ভব হবে না। ফলে গরম যত বাড়বে লোডশেডিংও তত বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রায় অবধারিত বাস্তবতা বলে মনে করা হচ্ছে।
উভয় সংকট পরিস্থিতি :বর্তমানে দেশে বিদ্যুত্ উত্পাদনকেন্দ্রগুলো ও আমদানি মিলিয়ে মোট বিদ্যুত্ উত্পাদনের সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু জ্বালানির অভাবে চাহিদামতো বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত দিনে সর্বোচ্চ উত্পাদন ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট। এ বছর সর্বোচ্চ বিদ্যুত্ উত্পাদিত হয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার মেগাওয়াট। পিডিবি সূত্র জানিয়েছে, লোডশেডিং সামাল দিতে দৈনিক অন্তত ১৩০-১৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দরকার। পায়রা, রামপাল, মাতারবাড়ী, বড়পুকুরিয়া, পটুয়াখালী, এস আলমসহ বড় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও পূর্ণ সক্ষমতায় উত্পাদন নিশ্চিত করতে হবে। গ্যাস অনুসন্ধানে অগ্রগতি না থাকায় এখন প্রতি বছর গড়ে ২০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের উত্পাদন কমছে। উচ্চমূল্যের আমদানিকৃত এলএনজিসহ বর্তমানে দৈনিক সরবরাহ ২৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে স্থানীয় গ্যাস ১৭৬ কোটি ঘনফুট। গত বছর এ সময়ে দেশজ গ্যাসের উত্পাদন ছিল ১৮১ কোটি ঘনফুট।
পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুতের জন্য চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করতে গেলে বাসাবাড়ি, শিল্প, সার কারখানা ও অন্যান্য খাতে গ্যাসের টান পড়বে। সেজন্য যতটা সম্ভব বিদ্যুতের গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো হবে। তবে চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। কারণ, রাতারাতি দেশি গ্যাসের উত্পাদন বাড়ানো যাবে না। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও ডলার সংকটের কারণে ইচ্ছামতো এলএনজি আমদানিও বাড়ানো যাবে না।
ভর্তুকির পরও লোকসান : সম্প্রতি বিদ্যুত্ বিভাগে পাঠানো পিডিবির সচিব মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি ২০২৩ সাল থেকে পেট্রোবাংলা ধাপে ধাপে গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ৫ দশমিক ০২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ দশমিক ৫০ টাকায় উন্নীত করেছে। এতে বিদ্যুত্ উত্পাদনের খরচ বেড়েছে, কিন্তু বিক্রির দাম বাড়ানো হয়নি। ফলে ভর্তুকি দেওয়ার পরও ২০২১-২০২২ সালে পিডিবির লোকসান হয় ১ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা, ২০২২-২০২৩ সালে ৯ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা, ২০২৩-২০২৪ সালে ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি এবং ২০২৪-২০২৫ সালে ১৩ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। সরকার পিডিবিকে ভর্তুকি দিয়েছে ২০২২ সালে ১২ হাজার ৮০০ কোটি, ২০২৩ সালে ২৯ হাজার ৫১১ কোটি, ২০২৪ সালে ৩৩ হাজার কোটি এবং ২০২৫ সালে ৫৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।




