আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া ৪১৭ জনের মধ্যে ২৫ জন নারী

ঢাকা, উত্তরবঙ্গ, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে নারী প্রার্থী বেশি

অনলাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ আসনে যাচাই-বাছাই, আপিল শুনানি ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন ১ হাজার ৯৮১ জন, যাদের মধ্যে নারী প্রার্থী ৭৬ জন। দুই দিন আগে চূড়ান্ত তালিকা জানায় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের তথ্য দিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়, এর মধ্যে মোট ৬৪৫টি আপিল নির্বাচন কমিশনে জমা পড়ে।

সবগুলো আপিলের শুনানি শেষে ১৮ জানুয়ারি জানা যায়, ইসিতে আপিল করে বৈধতা পান মোট ৪১৭ জন যাদের মধ্যে নারী ২৫ জন। এ বছর স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৪৯ জন। বাকিরা ৫১ দলের।

২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়। সীমানা জটিলতার কারণে আদালতের আদেশে পাবনা ১ ও পাবনা-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। এ দু্ই আসনে ২৭ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী জানা যাবে।

বৈধতা পেলেন যেসব নারী প্রার্থী

 দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগে ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদসহ বেশ কয়েক জন প্রার্থীকে নিজ থেকে নোটিশ দিয়েছিল ইসি। শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বহাল রাখে ইসি। প্রথম দিন (১০ জানুয়ারি -১০২৬) প্রার্থিতা ফিরে পান ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাসহ পাঁচ জন নারী প্রার্থী যাদের মধ্যে জাতীয় পার্টির খুলনা-৫ আসনের শামিম আরা পারভীন ও বাসদের বগুড়া-৬ আসনের দিলরুবাও রয়েছেন।

আপিল শুনানির ২য় দিনে (১১ জানুয়ারি) দুই জন নারী প্রার্থী বৈধতা পান, তারা হলেন বাসদের কুমিল্লা-৬ আসনের কামরুন নাহার সাথী এবং এনসিপির ঢাকা-১৮ আসনের সাবিনা জাবেদ। ৩য় দিনে টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তারের আপিল পেন্ডিং থাকে। ৪র্থ দিনে ১৩ জানুয়ারি চার জন নারীর আপিল মঞ্জুর হয় যাদের মধ্যে আছেন লেবার পার্টির চাঁদপুর-২ আসনের নাজনীন সরকার, এবি পার্টির চাঁদপুর-২ আসনের রাশিদা আক্তার এবং দুই জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ৫ম দিনে (১৪ জানুয়ারি) তিন জন নারী প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর হয় যারা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী। ৬ষ্ঠ দিনে পাঁচ জন নারী প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধতা পায়। তারা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী। ৭ম দিনে বিএনপির যশোর-২ আসনের সাবিরা সুলতানা এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তারের আপিল মঞ্জুর হয়। ৮ম দিনে স্বতন্ত্র তিন জন নারী প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর হয়। আপিল শুনানির বিষয় সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, আপিলে ইসি কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করে সিদ্ধান্ত দেয়নি। ইসি সবার অংশগ্রহণে একটি সুন্দর নির্বাচন চায়।

যেসব আসনে নারী প্রার্থী বেশি

ঢাকা-১২ ও নেত্রকোনা-৪ আসনে সর্বোচ্চ তিন জন করে নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আক্তার, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফাহমিদা মজিদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সালমা আক্তার। নেত্রকোনা-৪ আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির জলি তালুকদার, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসলিমা জামাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ঢাকার ২০টি আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঢাকা-৭ এবং ঢাকা-১৮ আসনে দুই জন করে নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঢাকা-৭ আসনে মার্কসবাদীর সীমা দত্ত এবং জেএসডির শাহানা সেলিম, ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আক্তার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সালমা আক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঢাকা-১৮ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের বিলকিস নাসিমা এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাবিনা জাবেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রংপুর-৩ আসনে দুই জন (রিটা রহমান, মোসা. আনোয়ারা ইসলাম রানী), জয়পুরহাট-১ আসনে দুই জন, নাটোর দুই আসনে দুই জন, ঝিনাইদহ-৪ আসনে দুই জন, নরসিংদী-৫ আসনে দুই জন, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে দুই জন, চাঁদপুর-২ আসনে দুই জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দুই জন, চট্টগ্রাম-১০ আসনে দুই জন এবং খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি আসন থেকে দুই জন করে নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Related Articles

Back to top button