যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলা ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে: ইরান

অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে আসার প্রাক্কালে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর যেকোনো হামলাকে তারা ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং তার কঠোর জবাব দেবে।
এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘সহায়তা আসছে’। ওই বিক্ষোভে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই সামরিক সমাবেশ আমরা আশা করি এটি প্রকৃত সংঘাতের উদ্দেশ্যে নয়। তবে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য আমাদের সেনাবাহিনী প্রস্তুত। সে কারণেই ইরানে সবকিছু সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবার যেকোনো ধরনের হামলা সীমিত, অসীম, সার্জিক্যাল, কাইনেটিক, তারা যাই বলুক না কেন, আমরা সেটিকে আমাদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবেই দেখব এবং এর নিষ্পত্তিতে সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাব।’
এদিকে বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘আর্মাডা’ বা বিশাল নৌবহর এগোচ্ছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেটি ব্যবহার করতে হবে না। একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু না করার ব্যাপারে সতর্ক করেন।
ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে, আমরা পাল্টা জবাব দেব।’ তবে সেই জবাব কী রকম হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এর আগেও উত্তেজনার সময় মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েনের নজির রয়েছে, যা সাধারণত প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হতো। তবে গত বছর জুনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বিমান হামলা চালানোর আগে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ করেছিল।
এ ছাড়া গত বছরের শেষ দিকে ক্যারিবীয় অঞ্চলেও মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে।



