সিসিটিভির সূত্র ধরে সাভারের ৫ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন আটক

অনলাইন ডেস্ক: সাভারে একের পর এক সংঘটিত পাঁচ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রহস্য উদঘাটনে বড় অগ্রগতি পেয়েছে পুলিশ। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে সাইকো সম্রাট নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে বেশে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশের এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
পুলিশ সূত্র জানায়, সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত জোরদার করা হয়। সর্বশেষ রোববার দুপুরে কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে নতুন করে দুটি মরদেহ উদ্ধারের পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। এরপর আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়।
ফুটেজে সন্দেহজনকভাবে এক ব্যক্তিকে ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তার চলাফেরা, অবস্থান ও সময়ের মিল থাকায় তদন্তকারীদের সন্দেহ গিয়ে পড়ে ওই ভবঘুরে ব্যক্তির দিকেই। পরে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটকের পর সন্দেহভাজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে একাধিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
একটি দায়িত্বশীল পুলিশ সূত্র জানায়, লাশ উদ্ধারের পরপরই দ্রুত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, সম্রাটকে তারা সবাই ভবঘুরে হিসেবেই চিনত। কখনো রাস্তায়, কখনো কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশে তাকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যেত। তার বিরুদ্ধে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আরমান আলী জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সবকিছু যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




