দিয়োগো জোতা-আন্দ্রে সিলভা বিশ্বকাপে পর্তুগালের প্রেরণার উৎস: ভিটিনিয়া

অনলাইন ডেস্ক: আগামী ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পর্তুগাল। সে সময় সেলেসাও মিডফিল্ডার ভিটিনিয়ার মনে থাকবে দুটি নাম- দিয়োগো জোতা ও আন্দ্রে সিলভা। মাত্র ছয় মাস আগে দুই ভাইয়ের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু এখনও গভীরভাবে নাড়া দেয় তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভিটিনিয়াকে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডসে ‘সেরা মিডফিল্ডার’ পুরস্কার জয়ের পর সিএনএন স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিটিনিয়া বলেন, ‘এ নিয়ে কথা বলা খুব কঠিন। কেউই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে চায় না। এটি সবার জন্যই দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ক্ষতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবচেয়ে বেশি ভাবি তাদের বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের কথা। ওদের কথাই মনে পড়ে বারবার।’
ভিটিনিয়ার মতে, প্রয়াত দুই ভাইয়ের স্মৃতিই আসন্ন বিশ্বকাপে পর্তুগালের জন্য ব্যক্তিগত ও দলগত প্রেরণার উৎস হবে। আর এটা শুধু বিশ্বকাপ বলে নয়, সবার স্বপ্ন বলে নয়- ওদের জন্যও আমরা জিততে চাই।’
শিরোপার দাবিদার পর্তুগাল
কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে অপ্রত্যাশিত বিদায়ের তিক্ত স্মৃতি এখনও ভুলতে পারেননি ভিটিনিয়া। তবে তিনি স্বীকার করেন, সেদিন মরক্কোই ভালো খেলেছিল। এরপর থেকে দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে গত গ্রীষ্মে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে স্পেনকে হারানো- তা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্বকাপ জয়ের আলোচনায় পর্তুগালকে সম্ভাব্য দাবিদারদের একজন হিসেবে দেখছেন ভিটিনিয়া। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সেরা জাতীয় দলগুলোর একটি। তাই এটা বাস্তবসম্মত লক্ষ্য। তবে একই সঙ্গে আমরা নিজেদের ফেভারিট বলছি না, তবে অনেক দূর যাওয়ার সক্ষমতা আমাদের আছে।’
কঠিন পরিবেশ, বড় চ্যালেঞ্জ
উচ্চ তাপমাত্রা ও বর্ধিত সূচির কারণে এবারের বিশ্বকাপ আরও কঠিন হবে বলেই মনে করেন ভিটিনিয়া। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ৩২ দল নিয়ে প্রথম ক্লাব বিশ্বকাপে পিএসজির হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা থেকেই বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন তিনি। এই সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ওখানে খেলতে ভালো লেগেছে, কিন্তু গরম আর টানা ম্যাচের চাপ খুব কঠিন। শারীরিক ও মানসিকভাবে যে দল সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত থাকবে, তারাই এগিয়ে যাবে।’
লুইস এনরিকের প্রভাব
প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনে কোচ লুইস এনরিকের অধীনে ভিটিনিয়ার উত্থান চোখে পড়ার মতো। ২০২৩ সালে স্প্যানিশ কোচের আগমনের পর থেকেই দলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। গত মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে সবচেয়ে বেশি ৭২ ম্যাচ খেলা আউটফিল্ড খেলোয়াড় ছিলেন তিনি।
ভিটিনিয়া বলেন, ‘লুইস এনরিক ক্লাব ও আমার জন্য অনেক কিছু বদলে দিয়েছেন। কৌশলগত ও মানবিক- দুই দিক থেকেই তিনি অসাধারণ।’
স্বপ্নের মতো এক মৌসুম
২০২৫ সালে পিএসজির দুর্দান্ত সাফল্যের কেন্দ্রে ছিলেন ভিটিনিয়া। এক বছরে ছয়টি ট্রফি জয়ের পাশাপাশি ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতে পিএসজি। ফাইনালে ৫-০ গোলের জয়ে স্মরণীয় ভূমিকা রাখেন তিনি।
‘সবকিছু সিনেমার মতো লাগছিল। এটা আমার জীবনের সেরা দিনগুলোর একটি,’ বলেন ভিটিনিয়া।
তবে অতীত সাফল্যে থেমে থাকতে চান না তিনি। ভবিষ্যতের দিকেই নজর তার। ‘যা হয়ে গেছে, তা হয়ে গেছে। সামনে আরও অনেক শিরোপা জয়ের লক্ষ্য আছে- আমরা সেদিকেই মনোযোগী,’ যোগ করেন এই পর্তুগিজ তারকা।




