ইয়েমেনে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ঘোষণা সৌদি জোটের

অনলাইন ডেস্ক: ইয়েমেনের চলমান অস্থিরতা নিরসনে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা দমনে দেশটিতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, ইয়েমেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় হাজরামাউত প্রদেশের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুকাল্লা বন্দর এবং এর আশপাশের এলাকাগুলোতে এই অভিযান চালানো হবে।

জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সতর্কতা বহাল থাকবে বলে জোটের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

সৌদি জোটের এই সামরিক পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল’ বা এসটিসি-র সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ করা। চলতি ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষমতার এক নাটকীয় পালাবদল ঘটে, যেখানে এসটিসি দক্ষিণ ইয়েমেনের বিশাল অংশ নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়।

তারা সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ এডেন শহর থেকে বিতাড়িত করার পর হাজরামাউত ও আল-মাহরার মতো কৌশলগত এলাকাগুলোও নিয়ন্ত্রণে নেয়। এই পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি সৌদি জোটের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এসটিসির সশস্ত্র সদস্যরা হাজরামাউত এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে এবং চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।

এর আগে গত শনিবারই সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, হাজরামাউত অঞ্চলে এসটিসি-র কোনো ধরণের সামরিক উসকানি সহ্য করা হবে না। জোটের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, তারা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈধ সরকারকে সব ধরণের সহযোগিতা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মুকাল্লা বন্দর এলাকায় এই অভিযানের ঘোষণার মাধ্যমে রিয়াদ মূলত সেই পূর্বঘোষিত হুঁশিয়ারিই কার্যকর করতে যাচ্ছে। ইয়েমেনের অখণ্ডতা রক্ষা এবং বিশৃঙ্খলা দমনে এই অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘস্থায়ী ইয়েমেন যুদ্ধে ইতি টানার জন্য অতীতে একাধিকবার আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে বারবার সেই শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং হুতি বিদ্রোহীদের ত্রিমুখী সংঘাতে সাধারণ মানুষের জনজীবন এখন বিপন্ন।

সৌদি জোট জানিয়েছে, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে হাজরামাউতে এসটিসি-র শক্ত অবস্থান থাকায় এই সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: এএফপি ও রয়টার্স

Related Articles

Back to top button