কুড়িগ্রাম ও ময়মনসিংহে জামায়াত আমির

কোনো আধিপত্যবাদ বা চোখ রাঙানিকে পরোয়া করা হবে না
অনলাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও কুড়িগ্রাম জেলায় অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে যোগ দিয়ে দলীয় ও জোট প্রার্থীদের পক্ষে ভোট ভিক্ষা করেন। ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে তাদের সরকার পরিচালনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেন।
গতকাল বুধবার জামায়াত আমির কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সীমান্তবর্তী তিস্তা ব্যারেজ হেলিপ্যাড মাঠে এবং পরে টাঙ্গাইলে শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে অনুষ্ঠিত নির্বাচিত জনসভায় বক্তৃতা করেন।
কোনো আধিপত্যবাদ বা চোখ রাঙানিকে পরোয়া করা হবে না
আমাদের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গতকাল দুপুরে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। এ সময় তিনি বলেন, প্রতিবেশী থাকবে বন্ধুর মতো। কোনো আধিপত্যবাদ বা চোখ রাঙানিকে পরোয়া করা হবে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ফেলানীর বাড়িতে আমি গিয়েছি, তার মা-বাবা চোখের পানি ফেলেছে। তারা চোখের পানি ফেলেনি, রক্ত ফেলেছে। আর এমন হতে দেওয়া হবে না। প্রতিবেশী থাকবে বন্ধুর মতো। কোনো আধিপত্যবাদ বা চোখ রাঙানিকে পরোয়া করা হবে না।’
পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হবে আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, ‘কৃষি বিপ্লব হলে সবাই কাজ পাবেন।’ জুলাই আন্দোলনে শহিদ রংপুরের সন্তান আবু সাঈদ বীরের মতো বুকে গুলি নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনে সাঈদ, মুগ্ধ, হাদিসহ ১ হাজার ৪০০ শহিদ হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক স্বাধীন বাংলাদেশ গড়া। আমাদের নিজস্ব কোনো স্বপ্ন নেই, তাদের স্বপ্নই আমাদের স্বপ্ন। আমরা এ রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না।’
আগামী ১২ তারিখে প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’ দিয়ে সবাইকে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে গণজোয়ার সৃষ্টি করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তারা নারীদের গায়ে, মা-বোনদের গায়ে হাত দিচ্ছেন। তারা হুমকি দিচ্ছেন কাপড় খুলে নিবেন।’ তিনি বলেন, ‘এটি আমার বাংলাদেশ, আপনাদের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে আর কোনো জমিদার মেনে নেব না।’ তিনি ওয়াদা করেন, ‘আমরা মায়েদের কথা দিচ্ছি, এ দেশে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চত করা হবে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে এদেশে আর নারীরা ধর্ষণের শিকার হবে না। আমরা জাতি-ধর্ম দেখব না। সব ধর্মের নারীদের সম্মান করা আমাদের বড় দায়িত্ব।’
এক্স আইডি হ্যাক প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির অভিযোগ করে বলেন, ‘এখন একটি গোষ্ঠী আমার পিছনে লেগেছে। আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যা তা চালিয়ে দিচ্ছে। আর অমনি একটা দল ঝাঁপিয়ে পড়ে তাইরে নাইরে গান শুরু করেছে। সত্য কখনো ধামাচাপা দেওয়া যায় না। ইতিমধ্যে মেইন কালপ্রিটকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা বার্ষিক বাজেটের চার গুণ। এই টাকা জনগণের। আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে দিলে এসব টাকা পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব।’
প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান মঞ্চে কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়া কুড়িগ্রাম-২ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী ড. আতিকুর রহমানেকে শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকারের সভাপতিত্বে এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াাতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব মো. আখতার হোসেন, রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির নুর উদ্দিন কাসেমী, কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আবদুল মতিন ফারুকী, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মো. মুকুল মিয়া প্রমুখ।
আমরা কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নেব না
আমাদের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেছেন, তার দল এবং জোট কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নেবে না। গতকাল বুধবার বিকালে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোট টাঙ্গাইল জেলা শাখা এ নির্বাচনি জনসভার আয়োজন করে।
জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা উত্তরাঞ্চলের অন্যতম সদস্য মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় গণপরিষদের অন্যতম সদস্য তামিরুল মিল্লাতের অধ্যক্ষ ড. খলিলুর রহমান মাদানী।
এর আগে, গত মঙ্গলবার জামায়াত আমির ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ ময়দানে, গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে এবং কিশোগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।
আমাদের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ডা. শফিকুর রহমান গত মঙ্গলবার ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় বলেছেন, ‘আমরা কোনো কার্ড এবং বেকার ভাতার সঙ্গেও নাই আমরা নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই। সেই নতুন বাংলাদেশ হবে ২৪-এর আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ। এ দেশের পরীক্ষিত, পরিচিত, প্রমাণিত যারা ন্যায়ের পক্ষে, সত্যের পক্ষে, হকের পক্ষে, মদিনার আদলে ইনসাফ কায়েমের পক্ষে যারা থাকবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহ যদি ১১ দলকে দেশবাসীর সেবা করার সুযোগ দেন, তাহলে এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশ নয়, এশিয়া নয়, বিশ্বের বুকে একটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হবে ইনশাআল্লাহ। এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গোটা ময়মনসিংহ বিভাগের কৃষি বিপ্লব ঘটবে। কৃষি এবং কৃষক—এই দুইটাকেই শিল্প এবং শিল্পীতে পরিণত করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি ও মুক্তাগাছা-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম ভুঁইয়া।
ময়মনসিংহে আসার আগে জামায়াত আমির কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন এবং পরে গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তৃতা করেন।




