খুলনার সেই শিশু জান্নাতুলের পাশে ডা. জুবাইদা রহমান

অনলাইন ডেস্ক: অর্থাভাবে চিকিৎসা থমকে যাওয়া খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তার চিকিৎসায় গঠিত হচ্ছে মেডিক্যাল বোর্ড।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির পরিবারের আকুতির একটি ভিডিও দেখে ডা. জুবাইদা রহমান অনতিবিলম্বে চিকিৎসার সার্বিক খোঁজ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
নির্দেশনা বাস্তবায়নে গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে খুমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন জান্নাতুলকে দেখতে যান খুলনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী। তিনি জান্নাতুল ফেরদৌসের শয্যাপাশে কিছু সময় কাটান, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জেডআরএফ সদস্য ডা. এমআর হাসানের সঙ্গে পরিবারটির ভিডিও কলে কথোপকথনের ব্যবস্থা করেন।
জান্নাতুলের মা আজমিরা বেগম জানান, তাদের বাড়ি কয়রা উপজেলায়। অভাব-অনটনের সংসার, তার ওপর স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটেছে। ৮ বছরের একটি ছোট ছেলেসহ দুই সন্তান নিয়ে চরম সংকটে আছেন তিনি। জান্নাতুল খুলনা মহানগরীর দৌলতপুরের দেয়ানা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ে কয়রার একটি হেফজখানায় ভর্তি হয়েছিল। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। মাত্র দুই মাস বয়সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তার দুটি পা নিস্তেজ হতে শুরু করে। এর মধ্যে তার নার্ভের জটিলতা ও বেড সোর (শয্যাক্ষত) দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, টাকার অভাবে চিকিৎসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। দুই দিন আগে এক ভদ্রলোক ভিডিও পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়। খবর পেয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী দেখতে আসেন এবং সুস্থ করে তোলার সব আশ্বাস দেন।
সার্বিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জেডআরএফ সদস্য ডা. এমআর হাসান বলেন, ভিডিওটি নজরে আসার পরই ডা. জুবাইদা রহমান সহায়তার উদ্যোগ নেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত জেডআরএফের প্রোগ্রাম পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে তদারকির নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী হাসপাতালে যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে এবং সোমবারই জান্নাতুলের সুচিকিৎসায় একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হবে।
খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, বিষয়টি নিয়ে শনিবার রাতে আমাকে ফোন করা হয়। এটি জানার পরপরই সরেজমিন চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। ভুক্তভোগী শিশু ও তার মায়ের সঙ্গেও কথা বলেছি। জান্নাতুলের দ্রুত আরোগ্যের জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠনসহ সব ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা আমাদের পক্ষ থেকে থাকবে।




