রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলিকে বেছে নেওয়ার কারণ জানালো জামায়াত জোট

অনলাইন ডেস্ক: ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত জেনেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। এলডিপি চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমদকে এই পদে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ ও যুক্তির কথা তুলে ধরেছে জামায়াত জোট।

গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনি কর্তা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের কার্যালয় থেকে অলি আহমদের জন্য জোটের তরফে মনোনয়ন ফরম নেওয়া হয়। এরপর নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোট সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এই ব্যাখ্যা দেন।

নব্বইয়ের দশক থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় আটবারের মধ্যে সাতবারই রাষ্ট্রপতি পদে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সুস্থ ধারার রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাঁচিয়ে রাখতেই ১১ দলীয় ঐক্যজোট নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাষ্ট্রের অভিভাবকত্ব ও সর্বোচ্চ পদের নির্বাচনেও যদি প্রতিযোগিতা না থাকে, তবে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়।

জামায়াত জোটের মতে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে জাতীয় সংসদের সদস্যরা নিজ দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বাধীনভাবে বা ফ্লোর ক্রস করে ভোট দিতে পারেন না। এই অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি দীর্ঘদিনের। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার মাধ্যমে বিএনপি রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে দ্বিচারিতা করেছে বলে অভিযোগ করেছে জোটটি। তাদের মতে, সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে এবং এই সংস্কার বাস্তবায়িত হলে জোটের প্রার্থী অলি আহমদ নিশ্চিতভাবেই বিজয়ী হতেন।

এলডিপি সভাপতি অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। জামায়াত জোট মনে করে, তিনি এই পদের জন্য অত্যন্ত যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব, যার মাধ্যমে জাতি একজন দক্ষ নেতার সেবা লাভ করতে পারত।

Related Articles

Back to top button