হাত-পা হারিয়ে হুইলচেয়ারে আদালতে ভুক্তভোগী, তিন মাসেও অধরা প্রধান আসামি

অনলাইন ডেস্ক: ফরিদপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে কুপিয়ে এক যুবকের ডান হাত ও ডান পা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রায় তিন মাস পরও গ্রেপ্তার হয়নি মামলার প্রধান আসামি। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি ভুক্তভোগী সুজন মুন্সি।

গতকাল সোমবার (২৭ জুলাই) মামলার দুই আসামির রিমান্ড শুনানিতে বক্তব্য দিতে হুইলচেয়ারে করে আদালতে হাজির হন তিনি।

ফরিদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ অনুষ্ঠিত শুনানিতে সাদা ব্যান্ডেজে মোড়ানো বিচ্ছিন্ন হাত-পা নিয়ে উপস্থিত হন সুজন মুন্সি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মা নিরু বেগম, স্ত্রী বেবী বেগম এবং বড় ভাই হায়দার মুন্সি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় চরভদ্রাসন উপজেলার ফাজেলখার ডাঙ্গী এলাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন সুজন। চাপাতি ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে তার ডান হাত ও ডান পা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। হামলায় শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর জখম হন তিনি। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে বড় ভাই হায়দার মুন্সিও আহত হন।

ঘটনার পরদিন সুজনের মা নিরু বেগম চারজনকে আসামি করে চরভদ্রাসন থানায় মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন কালাম মণ্ডল, সাত্তার মণ্ডল, শাহ বরাত মণ্ডল ও শামীম মণ্ডল। এর মধ্যে প্রধান আসামি কালাম মণ্ডল এখনও পলাতক।

গত বৃহস্পতিবার সাত্তার মণ্ডল ও শাহ বরাত মণ্ডল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠান। সোমবার শুনানিকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুই আসামির তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী হাবিবুর রহমান জানান, তদন্তের স্বার্থে এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আদালত দুই আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

আদালত প্রাঙ্গণে সুজনের স্ত্রী বেবী বেগম বলেন, তার চারটি ছোট সন্তান রয়েছে। স্বামী এখন একা চলাফেরা করতে পারেন না, এমনকি নিজের হাতে খেতেও পারেন না। তিনি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

সুজনের মা নিরু বেগম বলেন, কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তার ছেলেকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার এতদিন পরও প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি দ্রুত বিচার ও আসামিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বলেন, তিনি প্রায় ১০ দিন আগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছেন। এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত দুইজনসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামিসহ পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Related Articles

Back to top button