কচুরিপানার নিচে ৯ ঘণ্টা লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না দুই গরু চোরের

অনলাইন ডেস্ক: নাটোরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ২ চোর জলাশয়ে ঝাঁপ দিয়ে কচুরিপানার নিচে ৯ ঘণ্টা লুকিয়ে থাকে। কিন্তু ততক্ষণে এলাকাবাসী টের পেয়ে গেলে, তাদের ধরতে জলাশয়টি ঘিরে ফেলেন। তারপর তাদের আটক করে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী। 

গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে সিংড়া থানার চৌগ্রাম এলাকায় ওই ২ চোরকে আটকের পর তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আটকরা হলেন- ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার বেতাকুড়-আতারামপুর এলাকার কুদরত আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৪২) এবং জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার মইপুর গোপালপুর এলাকার মোস্তাকের ছেলে ফেরদৌস (২৬)।

সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ওই ২ চোরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আটক চোরদের বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় মামলা হবে। আবার রানীনগর থানা পুলিশও তাদের শোন অ্যারেস্ট দেখাবে। বৃহস্পতিবার ওই চোরদের আদালতে চালান দেওয়া হবে।

নওগাঁ জেলার রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল জানান, গত ১০ জুলাই ওই থানা এলাকায় গরুচুরির মামলা হয়। ওই মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসাবে নওগাঁর আত্রাই থানার কাশিয়াড়ী এলাকার আজমত দেওয়ানের ছেলে আসলাম দেওয়ানকে (৪৩) আটক করে র‍্যাব। এরপর তার দেওয়া তথ্যে বুধবার ভোর ৫টার দিকে সিংড়া চৌগ্রাম এলাকায় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে চেকপোস্ট বসায় রানীনগর থানার পুলিশ।

ওই সময় আসলাম দেওয়ানের গ্রুপের আন্তঃজেলা গরুচোর চক্রের ৫-৬ জন সদস্য একটি মিনিট্রাকে পৌঁছায়। কিছুক্ষণ পরই তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চৌগ্রাম-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। ওই সময় চোর চক্রের ওই দুজন রাস্তার পাশের কচুরিপানাপূর্ণ খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে লুকিয়ে যান।

স্থানীয় যুবক হাসান বলেন, ওরা কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এলাকাবাসী খাল ঘিরে রাখায় শেষ পর্যন্ত বের হয়ে আসতে বাধ্য হয়।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, আটক দুইজনকে প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

Related Articles

Back to top button