ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প

এখনো নিখোঁজ ৫১ হাজারের বেশি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৩০

অনলাইন ডেস্ক: লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে ক্ষতি ও প্রাণহানির পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।  জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলা। শনিবার (২৭ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় আরাগুয়া রাজ্যের উপকূলে ৪.৮ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

প্রলয়ংকরী এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৫১ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ জনে পৌঁছেছে। 

ইউরোপীয়-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, নতুন এই কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে। নতুন এই ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও, বুধবারের ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্পের পর একের পর এক আফটারশক বা অনুকম্পনে পুরো দেশজুড়ে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

রোববার (২৮ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরাঞ্চল। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

এর আগে, গত বুধবার রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটিতে। এতে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকাটিকে দুর্যোগকবলিত ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা যায়, উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটায় শুক্রবার রাত থেকে এলাকাটিতে যাতায়াতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। 

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বিশেষ অনুমতি নিয়ে লা গুয়াইরা এলাকায় প্রবেশ করতে হবে। তবে কারা এ অনুমতি পাবেন, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারি উদ্ধারকারী দলের উপস্থিতি পর্যাপ্ত নয়। অন্যদিকে সরকার ব্যাপক তৎপরতার দাবি করেছে।

ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, এখন প্রতিটি প্রাণ বাঁচানোই এক একটি অলৌকিক ঘটনা। আমরা এই ট্র্যাজেডির ভয়াবহতার কিছুই আড়াল করব না।

বুধবারের সেই জোড়া ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি লন্ডভন্ড হয়েছে দেশটির লা গুয়াইরা রাজ্য, যার প্রভাব পড়েছে রাজধানী কারাকাসের কিছু এলাকাতেও। এই চরম সংকটের মাঝে ভেনেজুয়েলা সরকারের উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক এলাকায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিপর্যয় সামাল দিতে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১ হাজার ৬০০ সদস্যের বিদেশি বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। 

নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষায় থাকা হাজারো মানুষের আর্তনাদ আর হাহাকারে বর্তমানে ভেনেজুয়েলার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

Related Articles

Back to top button