ভিনিসিয়ুসের বাতিল গোল নিয়ে ফুটবলবিশ্বে তুমুল বিতর্ক

অনলাইন ডেস্ক: চলমান বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অবিশ্বাস্য ফর্মের দিনে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে ভিএআর-এর একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুসের করা একটি দৃষ্টিনন্দন গোল ভিএআর পর্যালোচনার পর প্রধান রেফারি বাতিল করে দিলে ফুটবল বিশ্বে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই সিদ্ধান্তটি নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা ছন্দে দেখা যায় সেলেসাওদের। ম্যাচের মাত্র ৭ম মিনিটেই স্কটিশ ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনার একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ব্রাজিলকে দ্রুত এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস। শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ম্যাচের ২২তম মিনিটে আবারও স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগে কম্পন ধরান তিনি। এবার স্কটিশ খেলোয়াড় জ্যাক হেন্ড্রির কাছ থেকে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বল কেড়ে নিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান ভিনিসিয়ুস।

তবে ব্রাজিলের খেলোয়াড় ও গ্যালারি যখন দ্বিতীয় গোলের উৎসবে মেতে উঠেছে, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হয় ভিএআর। মাঠের রেফারি সিজার রামোস রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত দেন, বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে ভিনিসিয়ুস প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার হেন্ড্রির পায়ে আঘাত করেছিলেন। ফলে ফাউলের অপরাধে গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।

সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ভিনিসিয়ুস। তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই হেড থেকে আবারও গোল করে ব্রাজিলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

ম্যাচে ব্রাজিল জয় পেলেও ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যেও মতবিরোধ দেখা যায়। বিবিসির নিয়ম বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক আন্তর্জাতিক সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যানের মতে, এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্কটল্যান্ড কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়া পেয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘ভিডিওতে সামান্য স্পর্শ বা কন্টাক্ট হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আমার ফুটবলীয় দৃষ্টিতে এটি কখনোই ফাউল করার মতো অপরাধ ছিল না। ডিফেন্ডার নিজেই গতিশীল থাকায় এসে সংস্পর্শে জড়িয়েছেন। এই গোলটি বাতিল হওয়ায় স্কটল্যান্ড নিশ্চিতভাবেই বড় সুবিধা পেয়েছে।’

অন্যদিকে সাবেক স্কটিশ ফুটবলার জেমস ম্যাকফ্যাডেন রেফারির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তার ভাষ্য, ‘ভিনিসিয়ুস বলে যাওয়ার আগে হেন্ড্রির পায়ে আঘাত করেছে। সেই সংস্পর্শই ডিফেন্ডারকে বল ক্লিয়ার করতে বাধা দিয়েছে। তাই এটি ফাউল এবং গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক।’

বিবিসির স্টুডিও বিশ্লেষক ও সাবেক ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার লুকাস লেইভা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে ভিন্ন মত পোষণ করেন। তার মতে, ‘আধুনিক ফুটবলে এটি কোনোভাবেই ফাউল হতে পারে না। ভিনিসিয়ুস অত্যন্ত দারুণভাবে হাই-প্রেসিং করে এবং নিজের শারীরিক শক্তি খাটিয়ে বলটি জিতেছিল। আমার কাছে গোলটি শতভাগ বৈধ বলেই মনে হয়েছে।’

Related Articles

Back to top button