বিলাসপুরে কলাবাগানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বোমা তৈরির আলামত উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক: শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার আলোচিত বিলাসপুর এলাকায় একটি কলাবাগানে মজুদ রাখা হাতবোমা বা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে মুলাই বেপারী কান্দি এলাকায় সংঘটিত এ বিস্ফোরণে মাটিতে বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্ফোরণে সৃষ্ট গর্ত ও আশপাশের এলাকা বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কলাগাছ, কলাপাতা ও বিভিন্ন লতাপাতা দিয়ে ঘটনাস্থল আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বারুদের গন্ধ ঢাকতে গাছের পাতার ওপরও বালু ছিটানো হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

তবে আলামত মুছে ফেলার চেষ্টার পরও ঘটনাস্থলে বারুদের তীব্র গন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া স্কচটেপের টুকরো, জর্দার কৌটা, মার্বেল এবং প্লাস্টিকের বালতির ভাঙা অংশসহ বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত বলে ধারণা করা বিভিন্ন উপকরণের চিহ্ন দেখা যায়। পরে পুলিশ এসব আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ তারা শুনেছেন। তবে ঘটনাস্থলের আশপাশের অনেকেই এ বিষয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। কয়েকজন শিশু বিস্ফোরণের বিষয়টি স্বীকার করলেও প্রাপ্তবয়স্করা অধিকাংশই এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

ঘটনাস্থলের বাড়িতে কাউকে পাওয়া না গেলেও সেখানে অবস্থানরত এক নারী দ্রুত ঘরে তালা লাগিয়ে পাশের বাড়িতে চলে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ সময় ঘরের জানালা খোলা এবং রান্নার চুলায় আগুন জ্বলতে দেখা যায় বলেও তারা দাবি করেন।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালেহ আহমেদ বলেন, “বিলাসপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনায় কারা জড়িত এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিলাসপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটে আসছে। কয়েক মাস আগে একই এলাকায় বিস্ফোরক তৈরির সময় আরেকটি বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন। ওই ঘটনার পর সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ডগ স্কোয়াড যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক উদ্ধার করে।

এদিকে পূর্বের একটি বিস্ফোরক মামলায় চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারি ও তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত কুন্ডেরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আক্তার বেপারির নাম আসামির তালিকায় রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে শরীয়তপুরের নড়িয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি কোনো মামলার পলাতক আসামি হয়ে থাকেন এবং জামিনে না থাকেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, বিলাসপুর এলাকায় অতীতেও একাধিকবার সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক এ বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

Related Articles

Back to top button