ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে: মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক: ভারতে নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করে একতরফা পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য চরম বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঐতিহাসিক ১৬ মে ‘ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার (১৫ মে) দেওয়া এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনকানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক ধারা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভারতের এই একতরফা নীতির কারণে বাংলাদেশ নিষ্ফলা ঊষর ভূমি হয়ে ওঠার আলামত ইতিমধ্যেই চারদিকে ফুটে উঠেছে।
ফারাক্কা দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ থেকে ৪৯ বছর আগে অবিসংবাদিত মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে সারা দেশ থেকে লাখো জনতা ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের সংগ্রামে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নিয়েছিল। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ভারতে গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে একতরফা পানি প্রত্যাহার করার ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে এবং ওই এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়াসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত বিপর্যয়কে উপেক্ষা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামত অগ্রাহ্য করে ভারতকে পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়, যা এখন এ দেশের মানুষের জন্য স্থায়ী মরণফাঁদ।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, এই বঞ্চনা ও দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জনদুর্দশার আশঙ্কায় দূরদর্শী জননেতা মওলানা ভাসানী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিল করে ভারত সরকারের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বিষয়টি বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে আনেন। তখন থেকেই ব্যাপক মানববিপর্যয় সৃষ্টিকারী ফারাক্কা বাঁধের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে থাকে। ফারাক্কা দিবসের ৪৯তম বার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে দেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে এবং নদী রক্ষায় দেশবাসীকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান সরকারের এই মন্ত্রী।



