তানোরে শ্রমিকের অভাবে মাঠে পড়ে আছে পাকা ধান

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহীর তানোর উপজেলায় জ্বালানি সংকট ও শ্রমিকের অভাবে মাঠে পড়ে আছে পাকা ধান। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধানের কম দাম ও বৈরী আবহাওয়া। সব মিলিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিলপাড়ের জমিগুলো পাকা ধানে ভরপুর। কিন্তু শ্রমিক সংকটে সেই ধান ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। অন্যদিকে কালবৈশাখী ও বৃষ্টির শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। দ্রুত ধান কাটতে শ্রমিকের খোঁজে ছুটছেন এ গ্রাম থেকে ঐ গ্রাম।
কৃষকরা বলছেন, ‘বিলের জমির ধান পেকে গেছে। ধান কাটা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু ধানের দাম নেই। এক মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের খরচ ওঠে না। ধান কাটার মূল ভরসা বহিরাগত শ্রমিকরা। কিন্তু দাম না থাকায় শ্রমিকরা এখনো আসেননি বা আসতে চাচ্ছেন না। আবার ধান কাটার পর ট্রলিতে করে রাস্তায় আনা হয়। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রলিও নেই। পাকা ধান নিয়ে মহাযন্ত্রণায় পড়তে হচ্ছে।’
সাহেব নামে এক কৃষক বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে শ্রমিকরা জমি দেখে যেতেন কখন কাটা হবে, কখন আসতে হবে। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ উলটো। ধান পেকে গেছে, কাটার সঠিক সময়। কিন্তু শ্রমিক মিলছে না। আবার প্রচণ্ড তাপমাত্রা শুরু হয়েছে। বিলের নিচু জমির প্রায় ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। মাটিতে নুয়ে পড়লে শ্রমিকরা কাটতে চান না। কাটলেও দ্বিগুণ খরচ হয়।’ তিনি বলেন, “যে কোনো সময়ে ঝড় বৃষ্টি হতে পারে। এমন আশঙ্কায় ধান নিয়ে দিশেহারা অবস্থা।’
তালন্দ এলাকার কৃষক আমিনুল, আরশাদসহ অনেকেই জানান, সার সংকট, জ্বালানি সংকট, দামে ধস সব মিলিয়ে শ্রমিক সংকটে ধান কাটা যাচ্ছে না। এক মণ ধানের দাম কম (২৮ কেজিতে মণ ৮০০-৯০০ টাকা আর ৩৮ কেজিতে মণ ধানের দাম ১হাজার ১০০- ১হাজার ১২০ টাকা পর্যন্ত), অথচ সারা দিন একজন শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে ৮০০ টাকা।
কৃষক শাকিল, মিলন, এন্তাজ ও নাদিম জানান, শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বহিরাগত শ্রমিকরা না এলে ধান কাটা কষ্টকর। বিগত বছরগুলোতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা আসতেন। কিন্তু তেল সংকটের কারণে তারা আসতে পারছেন না। কারণ তারা নিজস্ব ট্রলি বা বহনের গাড়ি নিয়ে আসেন। গাড়িতে তেল না পাওয়ায় তারা আসছেন না। স্থানীয় শ্রমিক খুবই কম। যারা ধান কাটেন, তারা মজুরি ভিত্তিতে কাজ করে তারা সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ধান কাটেন। এ জন্য ৫০০ টাকা করে মজুরি দিতে হয়। আর চুক্তিভিত্তিক হলে বিঘায় ৫ মণ করে ধান দিতে হয়। তাতেও শ্রমিক মিলছে না। বিঘাপ্রতি কাটা-মাড়াইয়ে ৭ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সে হিসেবে রোপণ থেকে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত বিঘায় ২৩ হাজার টাকা খরচ।
বিঘায় যদি ২৫ মণ ধান হয়, বর্তমান বাজারমূল্যে (প্রতি মণ ২৮ কেজির দাম ৮০০ টাকা) মোট দাম দাঁড়ায় ২০ হাজার টাকা। মানে বিঘাপ্রতি ৩-৪ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ বিষয়ে তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, যেভাবেই হোক দ্রুত সময়ের মধ্যে ধান কাটতে হবে। কারণ যে কোনো সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরো খারাপ
এলাকার কৃষক আমিনুল, করে তুলতে পারে।


