পিরোজপুরে ব্যস্ত সড়কে চলছে ধান মাড়াই

অনলাইন ডেস্ক: পিরোজপুর-নাজিরপুর-পাটগাতি-ঘোনাপাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধান মাড়াই ও শুকানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এ কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি পথচারী ও যানবাহনের চালকরা দুর্ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় ধানের খড় ও কুঁড়া ভিজে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরো বেড়ে যায় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন পিরোজপুর থেকে ঢাকাগামী বাসসহ দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে বিভিন্ন দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করে।

একই সঙ্গে স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এই সড়ক ব্যবহার করেন। ব্যস্ত এই সড়কের ওপর কৃষকদের ধান মাড়াই ও শুকানোর কারণে বিভিন্ন সময় যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এমনকি এই সড়কে ধান মাড়াইয়ের কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। নাজিরপুর উপজেলা প্রশাসন থেকে এ ব্যাপারে সতর্কতামূলক প্রচার- প্রচারণা চালিয়েও এই প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব যাচ্ছে না। পিরোজপুরের সদরের সিকদারমল্লিক ইউনিয়নের গাবতলা, নাজিরপুরের কবিরাজবাড়ী, ভাইজোড়া, দীঘিরজান প্রভৃতি এলাকার কৃষকরা এই সড়কে ধান মাড়াইয়ের কাজ বেশি করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের কয়েকটি স্থানে কৃষকরা ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজে রাস্তার উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করছেন। এতে যানবাহনের জন্য চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে চালকদের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। ধান মাড়াইয়ের কাজে যুক্ত কৃষক দুলাল বলেন, ‘কোথায় যাব? ধান তো মাড়াই করতে হয়। বৃষ্টির দিন জায়গার অভাবে রাস্তার পাশে কয়েক ঘণ্টার জন্য কাজ করি। পরে খড় সরিয়ে ফেলি।’

স্থানীয় ইজিবাইক চালক আলতাফ শেখ বলেন, *অনেক সময় রাস্তার বড় অংশ ধান ও খড়ে ভরে থাকে। বৃষ্টি হলে এগুলো ভিজে পিচ্ছিল হয়ে যায়। তখন গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কষ্ট হয়, দুর্ঘটনার ভয়ও থাকে।’ এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল বলেন, ‘সড়কের ওপর এ ধরনের কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। এর আগে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। দুর্ঘটনা এড়াতে মাইকিংসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিষয়টি তুলে ধরে সচেতনতা বাড়ানো হবে।’ তিনি আরো বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

Related Articles

Back to top button