‘অচিরেই খেজুর বণ্টনের তালিকা প্রকাশ করা হবে’

অনলাইন ডেস্ক: দেশজুড়ে তুমুল আলোচিত ‘খেজুর ইস্যু’তে এবার বার্তা দিলেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামী আন্দোলনের নেতা মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ।
গতকাল শনিবার (১৪ মার্চ) দিবাগত মাঝরাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টের মাধ্যমে এ বার্তা দেন তিনি।
পোস্টে অলিউল্লাহ লিখেছেন, ‘অচিরেই খেজুর বণ্টনের তালিকা প্রকাশ করা হবে। যারা না জেনে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি করছেন, বুঝে-শুনে লেখালেখি করা দরকার ছিল। নতুবা এ ব্যাপারে আমার কাছে জিজ্ঞেস করা দরকার ছিল। না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হয়নি।’
এর আগে, সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে অভিযোগমূলক বিভিন্ন ধরনের লেখালেখি দেখা যায়। কিছু কিছু আইডি থেকে দাবি করা হয়, সংসদ সদস্য অলিউল্লাহ তার এলাকার বরাদ্দকৃত খেজুর ‘আত্মসাৎ করেছেন’। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন ইসলামী আন্দোলনের এই এমপি।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ১২ হাজার ২৫০ কার্টন খেজুর দেশের বিভিন্ন জেলায় বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ‘কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার’-এর দেওয়া এই খেজুর জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, সৌদি আরবের বাদশাহ প্রতিষ্ঠিত ‘কিং সালমান হিউম্যানিটিরিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারে’র পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে ১২ হাজার ৫০০ কার্টন খেজুর উপহার দেওয়া হয়। এসব খেজুর গত ১ মার্চ জেলাভিত্তিক বণ্টনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। পরবর্তীতে একই তারিখ ও স্মারকের ৫ মার্চ স্বাক্ষরিত সংশোধিত বরাদ্দপত্রে ১২ হাজার ২৫০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া শুরুতে ঢাকায় মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে ১৮৫, ঢাকাস্থ সৌদি আরব দূতাবাসকে ৫০ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে ১৫ কার্টুন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরের আদেশে তা বাতিল করা হয়েছে। এতে কুমিল্লা, টাংগাইল, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, নওগাঁ, দিনাজপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলায় খেজুরের কার্টুন কম-বেশি হয়েছে।
গত ৫ মার্চের বরাদ্দ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জেলার জনসংখ্যা ও ইউনিয়নের আনুপাতিকহারে খেজুর বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে এসব খেজুর বিতরণ করা হবে।
সর্বশেষ বরাদ্দ অনুযায়ী, ঢাকা জেলায় ২৯৭ কার্টুন, নারায়ণগঞ্জে ১০১, গাজীপুরে ১০৩, মুন্সিগঞ্জে ১৮০, মানিকগঞ্জে ১৭১, নরসিংদীতে ১৮৮, টাঙ্গাইলে ৩০০, কিশোরগঞ্জে ২৮০, ফরিদপুরে ২১০, গোপালগঞ্জে ১৭৫, মাদারীপুরে ১৫৭, শরীয়তপুরে ১৭৩ এবং রাজবাড়ীতে ১১০ কার্টন খেজুর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহে ৪১৪, নেত্রকোনায় ২২৬, জামালপুরে ১৭৭, শেরপুরে ১৩৭, চট্টগ্রামে ৫০০, কক্সবাজারে ১৮৭, রাঙ্গামাটিতে ১৩০, খাগড়াছড়িতে ৯৭, বান্দরবানে ৯০, কুমিল্লায় ৫০০, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৬০, চাঁদপুরে ২৩৫, নোয়াখালীতে ২৪৩, লক্ষ্মীপুরে ১৫৪ এবং ফেনীতে ১১২ কার্টুন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহীতে ১৯০, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১১৬, নওগাঁয় ২৫০, নাটোরে ১৩৫, পাবনায় ১৯৬, সিরাজগঞ্জে ২২১, বগুড়ায় ২৯১ এবং জয়পুরহাটে ৮১ কার্টন খেজুর দেওয়া হয়েছে।
রংপুরে ২০১, কুড়িগ্রামে ১৯২, নীলফামারীতে ১৬১, গাইবান্ধায় ২১৪, লালমনিরহাটে ১১৬, দিনাজপুরে ২৬৫, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪১ এবং পঞ্চগড়ে ১১২ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুলনায় ১৮২, বাগেরহাটে ২০৩, সাতক্ষীরায় ২০৭, যশোরে ২৪৭, ঝিনাইদহে ১৭৫, মাগুরায় ৯২, নড়াইলে ১০১, কুষ্টিয়ায় ১৭৪, মেহেরপুরে ৫১ এবং চুয়াডাঙ্গায় ১০৫ কার্টন খেজুর দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বরিশালে ২৩৪, পটুয়াখালীতে ২০২, ভোলায় ১৮৭, পিরোজপুরে ১৩৯, বরগুনায় ১১০, ঝালকাঠিতে ৮২, সিলেটে ২৭৫, হবিগঞ্জে ২০০, মৌলভীবাজারে ১৭০ এবং সুনামগঞ্জে ২২৫ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।



