নিরাপত্তা শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ার ‘সেফ হাউসে’ ৫ ইরানি নারী ফুটবলার

অনলাইন ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ায় চলমান উইমেন’স এশিয়ান কাপ শেষে দেশে ফেরা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে ইরান নারী ফুটবল দলের পাঁচ সদস্য একটি ‘সেফ হাউসে’ আশ্রয় নিয়েছেন। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে হারের পর দলটির দেশে ফেরার কথা থাকলেও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শঙ্কা তৈরি হয়েছ
গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে আসরের প্রথম ম্যাচে ইরানের জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই দেশে তাদের নিয়ে কঠোর সমালোচনা শুরু হয়। ইরানের একজন রক্ষণশীল টেলিভিশন উপস্থাপক ফুটবলারদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানোর পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে বিবিসি সোমবার এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে।
গত রোববার গোল্ড কোস্টে স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকশ সমর্থক ইরানের টিম বাস ঘিরে ধরে ‘আমাদের মেয়েদের বাঁচাও’ স্লোগান দিতে থাকে। বিবিসির তথ্যমতে, টিম হোটেলের ভেতরেও গত কয়েক দিনে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে কথা বলার পর হোটেল লবি থেকে বেরিয়ে যান, যা দলের ভেতর আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
অনেক খেলোয়াড় বর্তমানে সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিশ্বব্যাপী খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রোর এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের সভাপতি বিউ বুশ সিডনিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিফা, এএফসি এবং অস্ট্রেলিয়ান সরকারের প্রতি এই নারী ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছেন ও স্যালুট করেছেন, যা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের ধারণা, দলের সঙ্গে আসা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্যরা খেলোয়াড়দের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের জাতীয় সঙ্গীত গাইতে ও স্যালুট করতে বাধ্য করেছেন।
ফিফপ্রো নেতা বিউ বুশ জানিয়েছেন, দলের মধ্যে এমন কিছু খেলোয়াড় থাকতে পারেন যারা অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চান অথবা আরও বেশি সময় সেখানে থাকতে চান। বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তাদের জোর করে দেশে ফেরত পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে এই সংকটে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন যে, ইরান দলকে জোরপূর্বক দেশে ফিরতে দিয়ে অস্ট্রেলিয়া একটি ‘ভয়াবহ মানবিক ভুল’ করছে। ট্রাম্প আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ইরানে ফিরলে এই খেলোয়াড়দের প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে।
তিনি অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ফুটবলারদের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, অস্ট্রেলিয়া রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আশ্রয় দেবে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বর্তমানে কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা খেলোয়াড়দের ফেরার পথকে আরও জটিল করে তুলেছে।




