ঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক: পদ্মা নদীতে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় নৌপথের দিকনির্দেশক চিহ্ন বা চ্যানেল মার্কিং পয়েন্টগুলো অস্পষ্ট হয়ে পড়ায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ৫টা ১০ মিনিট থেকে সম্ভাব্য নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফেরি চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘাটের উভয় প্রান্তে শত শত যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং ছোট যানবাহন আটকা পড়েছে। ফলে শেষ রাত থেকে কুয়াশার মধ্যে আটকে থাকা হাজার হাজার যাত্রী ও চালক চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন নিশ্চিত করেছেন যে, নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান যে, কুয়াশা এতটাই ঘন ছিল যে ফেরি চালকদের পক্ষে সামনের পথ দেখে নৌযান চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে দৌলতদিয়া প্রান্তের ৪টি ফেরিসহ অন্যান্য নৌযানগুলো মাঝপদ্মা ও দুই ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে। কুয়াশার চাদর সরে গিয়ে দৃশ্যমানতা স্বাভাবিক হলে পুনরায় ফেরি পারাপার শুরু করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
এদিকে দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটের দুই প্রান্তেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। মহাসড়কে আটকা পড়া চালকেরা জানিয়েছেন যে, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার কারণে বিশেষ করে পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকগুলো ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাধারণ যাত্রীরা বিশেষ করে নারী ও শিশুরা ঘাটের টার্মিনালে অপেক্ষা করতে গিয়ে অবর্ণনীয় কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আটকে থাকা যাত্রীবাহী বাসগুলো আগে পারাপার করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নৌপথের এই অচলাবস্থা কেবল দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটেই নয়, বরং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটিয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি প্রতিনিয়ত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করছে এবং কুয়াশা কেটে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক বিবেচনায় দ্রুততম সময়ে সব কটি ফেরি সচল করা হবে। প্রতিবছর শীতের শেষ দিকে এমন ঘন কুয়াশার কারণে পদ্মা নদীতে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে যাত্রীদের ভোগান্তিও দীর্ঘস্থায়ী হয়।




