নারী ফুটবলে ঐতিহাসিক দিন আজ

অনলাইন ডেস্ক: দেশের নারী ফুটবলে এমন দিন আর আসেনি। বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা আজ এশিয়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চে লড়াই করতে নামবে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এশিয়ান কাপ ফুটবলে বাংলাদেশের অভিষেক হবে আজ। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চীন। ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা এবং বাংলাদেশ সময় বেলা ২টায় খেলা শুরু হবে।
এশিয়ান কাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে ১২টি দেশ খেলছে। এবারই প্রথম এশিয়া কাপের মূল মঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। দেশের নারী ফুটবল দীর্ঘ দিনের। কিন্তু পরিকল্পিত পথচলা। শুরু হয়েছে প্রায় ১৫ বছর। তিল তিল করে গড়ে তোলা নারী ফুটবলের গাছটা আজ ডালপালা ছড়িয়েছে। উপমহাদেশের ফুটবলে পরপর দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভাঙন ধরিয়েছে ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোকে। কাঁপিয়ে দিয়েছে এশিয়ার ফুটবল, জানান দিয়েছে বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা বীরদর্পে এগিয়ে এসেছে।
দেশের সাধারণ মানুষ উপলব্ধি করতে শুরু করেছিল ফুটবলে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভালোবাসা, প্রার্থনা সব সময় নারী ফুটবলের প্রতিটা ম্যাচে ছায়া হয়ে থাকত। সময়ের স্রোতে দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখতে শুরু করল সাফ পেরিয়ে বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা এশিয়ার বড় মঞ্চে দেশের পতাকা তুলে ধরবে। সেই স্বপ্নটাই আজ পূর্ণ হতে চলেছে। আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
৩ গ্রুপে এশিয়ার সেরা ১২টি দেশ খেলবে। এর মধ্যে বি গ্রুপে বাংলাদেশ, চীন ছাড়াও উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তান রয়েছে। কঠিন গ্রুপে বাংলাদেশ। নারী ফুটবলে চীনের মতো ইতিহাস আর ঐতিহ্যে ভরা দলের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। যাদের ফুটবল কাঠোমো পেশাদার খেলোয়াড়দের ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষণে বাংলাদেশ পর্যায়ে তুলনা করলে বাংলাদেশ যোজন যোজন দূরে। এশিয়ার বাকি ১১টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের সুযোগ-সুবিধার কথা তুলনা করলে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।
১৯ ফেব্রুয়ারি অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারের বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ার সুযোগ সুবিধা দেখে রোমাঞ্চিত। নিজেদের দেশের স্টেডিয়াম, মাঠ, ড্রেসিংরুম, অনুশীলন মাঠ, গ্যালারি সবকিছু দেখে মুগ্ধ শিউলী, মনিকা, মারিয়া, ঋতুপর্ণা চাকমারা। সিডনিতে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভেতরের কথাটা বলেই দিলেন ইংলিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। ‘গুলিস্তান থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছি।’
গত ১০ দিনে অস্ট্রেলিয়ার আকাশের নিচে গেম প্ল্যান অনুশীলন হয়েছে। চীন শক্তিশালী দল হলেও বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের সাহস অন্যরকম। তাদের দিয়ে বিশ্বাস নেই। তারা জীবনে অনেক ঘাতপ্রতিঘাত পেরিয়ে জীবন সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন। তাদের মধ্যে দেশের জন্য অন্যরকম অনুভূতি। জীবন দিয়ে লড়াই করার মতো মানসিকতা। চীন কতটা ভয়ংকর হতে পারে-তা নিয়ে এক বিন্দু ভাববে না শামসুন নাহার, ঋতুপর্ণারা। নারী ফুটবলারদের দীর্ঘদিনের কোচ ছিলেন গোলাম রাব্বানী ছোটন। তিনি বলছেন, ‘এশিয়া কাপের মতো ফুটবলের কঠিন লড়াইয়ের সামনে এসে এখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। কার কত শক্তি এসব নিয়ে ভাবলে হবে না এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই।’

বাংলাদেশ আর চীনের মধ্যে অসম লড়াই হবে। তবে বাংলাদেশের ফুটবলাররা পরিষ্কার জানিয়েছেন তারা খেলবেন দেশের জন্য, তাদের পরিবারের জন্য, তাদের নিজেদের জন্য। এই আত্মবিশ্বাস যখন একটা দলের মধ্যে বাসা বাঁধে তখন সেই মানুষগুলো সহজেই হেরে যায় না। জীবনযুদ্ধ জয় করে যারা এগিয়ে যায় তার সব সময় বীরের মতোই থাকে। ওদের ভেতরে ভয় কাজ করে না। কোনো চাপ কাজ করছে না।
এশিয়া কাপের বাছাইয়ে ফুটবল কর্তারা দুশ্চিন্তা করেছিলেন খেলোয়াড়রা পারবে কি না। কিন্তু খেলোয়াড়রা বাছাইয়ের গ্রুপের শক্তিশালী মিয়ানমারকে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্বে উঠেছিল। বাংলার নারী ফুটবলাররা চীনের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে গেলেও কোনো আফসোস থাকার কথা না। কারণ হাজারো সংকটে তারা এ দেশের ফুটবলকে এত দূর নিয়ে এসেছেন।
চীনের অস্ট্রেলিয়ান কোচ এন্টনি মিলিসিক বাংলাদেশকে নিয়ে পজিটিভ কথা বলেছেন। ‘আমি বাংলাদেশের খেলা দেখেছি। অনেক ভালো ভালো ফুটবলার রয়েছেন দলে। বাংলাদেশ এবার প্রথমবার এশিয়া কাপে খেললেও তাদের হারানোর কিছু নেই। তাই ওরা ভালো খেলবে এবং মুক্ত মনে খেলতে পারবে। এশিয়া কাপ ফুটবলে চীন সবচেয়ে সফলতম কোচ, অতএব বাংলাদেশকে হালকা ভাবে নেওয়ার কিছু নেই।’
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে চীনের জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বড় একটি গোষ্ঠী আজ খেলা দেখতে স্টেডিয়ামের পুরোটাই দখল করবে। এটা জানা আছে বাংলাদেশের ফুটবলারদের। তবে খণ্ড হলেও সিডনিতে বাংলাদেশের জন সংখ্যাও রয়েছে। তারাও গ্যালারিতে দেশের পতাকা উঁচিয়ে সমর্থন জানাবেন। পিছিয়ে থাকবে না বাংলাদেশ।




