স্পিনে কিউইদের বশ, ম্যাচের হিসাব বদলে দেয় জ্যাকস–রেহান

অনলাইন ডেস্ক: কলম্বোর ধীরগতির উইকেটে ম্যাচটা যেন এক সময় পুরোপুরি নিউজিল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে। ১৭ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের স্কোর ৬ উইকেটে ১১৭; জয়ের জন্য দরকার ১৮ বলে ৪৩ রান। টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যর্থতায় ভোগা জস বাটলারের দ্রুত বিদায় পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের গল্প বদলে দেন উইল জ্যাকস ও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা তরুণ রেহান আহমেদ। তাদের দুঃসাহসী ব্যাটিংয়ে স্পিন–নির্ভর এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নিজেদের শক্তির জানান দিল ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের জন্য ম্যাচটি ছিল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, কিন্তু নিউজিল্যান্ডের জন্য ছিল সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার সুযোগ। তাই ১৫৯ রানের সংগ্রহ গড়ার পথে গ্লেন ফিলিপসের ২৮ বলে ৩৯ রানের ইনিংস ও তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যই একসময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছিল। ব্যাট হাতে অবদান রাখার পর হ্যারি ব্রুককে প্রথম বলেই ফেরানো এবং জ্যাকব বেথেলের দুর্দান্ত ক্যাচ— সব মিলিয়ে কিউইদের জয় যেন সময়ের অপেক্ষা।
কিন্তু ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডারে টম ব্যান্টনের ২৪ বলে ৩৩ রান দলকে ভাসিয়ে রাখে। শেষদিকে জ্যাকস ও রেহানের জুটি ম্যাচটাকে নতুন করে লিখতে শুরু করে। ফিলিপসের এক ওভারেই ২২ রান— একটি ছক্কা, দুটি বাউন্ডারি— সমীকরণ পুরো পাল্টে দেয়। এরপর মিচেল স্যান্টনারের মতো মিতব্যয়ী বোলারকেও রিভার্স সুইপে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রেহান বুঝিয়ে দেন, ভয় নয়, আক্রমণই তাদের একমাত্র পথ। শেষ ওভারে দরকার ছিল মাত্র পাঁচ রান।
ইংল্যান্ডের রান তাড়া শুরু হয়েছিল দুঃস্বপ্ন দিয়ে। ম্যাট হেনরির সুইং–সিমে ফিল সল্ট ও বাটলার দ্রুত ফিরে গেলে ৮ বলেই স্কোর ২ উইকেটে ২। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ১৫ রান করা বাটলারের ব্যর্থতা আবারও সামনে আসে। তবে তিন নম্বরে নেমে হ্যারি ব্রুক ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু সাহসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন— একটি স্কুপ ছক্কায় স্কোরবোর্ডের এলইডি ভেঙে ফেলার দৃশ্য যেন ইংল্যান্ডের মানসিকতার প্রতীক। যদিও তার ইনিংস বড় হয়নি, তবু আক্রমণাত্মক মনোভাব দলের ভিত গড়ে দেয়।
দলের নেতৃত্ব হাতে নেওয়ার পর থেকেই ব্রুকের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন স্পিনের ওপর নির্ভরতা। এই ম্যাচে ইংল্যান্ড ১৬ ওভার স্পিন ব্যবহার করে টি–টোয়েন্টিতে যা তাদের নতুন রেকর্ড। আদিল রশিদের স্টাম্পিংয়ে সিফার্টের বিদায়, জ্যাকসের টার্নে ফিন অ্যালেনের ক্যাচ, রেহানের প্রথম ওভারেই রাচিন রবীন্দ্রর উইকেট— সব মিলিয়ে কিউই মিডল অর্ডারকে চেপে ধরে ইংল্যান্ড।
জোফ্রা আর্চার শুরুতে গতি দিয়ে চাপ তৈরি করলেও পাওয়ারপ্লেতে ৫৪ রান উঠে যাওয়ায় সেই প্রভাব কিছুটা নষ্ট হয়। এরপর পুরো ইনিংস জুড়ে স্পিনারদের ওপর আস্থা রাখার সিদ্ধান্তই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রেহান আহমেদকে একাদশে নেওয়ার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হয়। বল হাতে উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে নির্ভীক শট— এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্স তাকে ম্যাচের নায়ক করে তোলে। অন্যদিকে টুর্নামেন্টজুড়ে পাওয়া আত্মবিশ্বাস নিয়ে জ্যাকস শেষের ঝড় তোলেন এবং চতুর্থবারের মতো ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন।
ইংল্যান্ড আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল, কিন্তু এই জয় তাদের টুর্নামেন্টে প্রথম সত্যিকারের ‘স্টেটমেন্ট’। ধীর উইকেটে স্পিন–ভিত্তিক কৌশল, চাপের মুখে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং তরুণদের নির্ভীক পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে তারা শিরোপা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত এমন ইঙ্গিতই দিল।




