ভোলা-৪

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর ছেলে-মেয়ের ওপর হামলার অভিযোগ জামায়াতকর্মীদের বিরুদ্ধে
অনলাইন ডেস্ক: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় বাবার পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া ও ছেলে মো. তাহজিব। এ ঘটনায় তারা দুজনসহ তিনজন আহত হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা এ হামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া কামাল।
গতকাল বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে চরফ্যাশন প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন প্রার্থী কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া। এর আগে সকালে চরফ্যাশন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে এ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে চরফ্যাশন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী দাওয়াতি কার্যক্রম চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। মারিয়া কামালের নেতৃত্বে পাঁচ থেকে সাতজন নারী কর্মী ওই এলাকায় ভোটারদের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দিচ্ছিলেন। এ সময় প্রার্থীর ছেলে মুহাম্মাদ তাহজিব এবং জেলা যুব আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদ তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষ হয়ে মো. সোহেল হাওলাদার ও আলাউদ্দিন নামের দুই ব্যক্তি প্রচারণায় বাধা দেন এবং গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা মুহাম্মাদ তাহজিব ও ফয়সাল আহমাদকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে প্রার্থীর মেয়ে মারিয়া কামালকেও ধাক্কা দেওয়া হয়। এ সময় বিএনপির লোকজন এসে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করেন। কিন্তু জামায়াতের লোকজন আরও কর্মী-সমর্থকদের ডেকে এনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। এ সময় ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের আরও লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় তিনজন আহত হন। স্থানীয় লোকজন মারিয়া কামালসহ আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা কামাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক আন্দোলনের এক নেতা তাকে (মোস্তফা কামাল) মুঠোফোনে ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানালে তারা তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছে যে হুমকিটি ইসলামী আন্দোলনের লোকজনের পক্ষ থেকেই এসেছে। তার দাবি, এই সত্য আড়াল করতেই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হামলার নাটক সাজানো হয়েছে। তবু উভয় পক্ষকে ডেকে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হবে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনার পর অভিযুক্ত সোহেল ও আলাউদ্দিন মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াত আমির মীর মো. শরিফ বলেন, যদি তাদের কোনো কর্মী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




