সহিংসতায় উসকানির মামলায় পাকিস্তানে ইউটিউবার-সাংবাদিকসহ ৭ জনের ‘ডাবল’ যাবজ্জীবন

অনলা্‌ইন ডেস্ক: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সন্ত্রাসবাদ চালানোর অভিযোগে আলোচিত ইউটিউবার আদিল রাজা এবং সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খানসহ সাতজনকে ‘ডাবল’ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ইসলামাবাদের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত (এটিসি)।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) বিচারক তাহির আব্বাস সিপ্রা এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত অন্য ব্যক্তিরা হলেন সাবির শাকির, শাহিন সেহবাই, হায়দার রাজা মেহদি, মঈন পীরজাদা এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আকবর হোসেন।

২০২৩ সালের ৯ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা ও সামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই রায় দেয়া হয়।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আসামিরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং বিদ্রোহে প্ররোচনা দিয়েছেন। মামলার প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসামিরা ৯ মে’র সহিংসতার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে হামলাকারীদের উৎসাহিত করেছিলেন।

পাকিস্তানের দণ্ডবিধির ১২১ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহ ও যুদ্ধ ঘোষণার অভিযোগে তাদের দুই দফায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ লাখ রুপি করে জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়াও বিদ্রোহে প্ররোচনা এবং ষড়যন্ত্রের দায়ে তাদের আরও পৃথক ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় তাদের আরও পাঁচ বছর করে তিনটি পৃথক সাজা দেওয়া হয়েছে, যা মূল সাজার সাথে একসাথেই কার্যকর হবে।

অভিযুক্তরা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের অনুপস্থিতিতেই এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিশেষ বিধান অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিচার চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষ মোট ২৪ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে এবং আসামিদের পক্ষে আদালত নিযুক্ত একজন আইনজীবী লড়াই করেন।

আদালতের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে যে, আসামিরা দেশে ফেরামাত্রই যেন তাদের গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকরের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়। সংক্ষুব্ধ পক্ষ চাইলে আগামী সাত দিনের মধ্যে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে।

Related Articles

Back to top button