তুরস্ককে যুদ্ধবিমান বিক্রিতে নেতানিয়াহুর আপত্তি

আমি কাকে কী বিক্রি করব, সেটা কেউ ঠিক করে দেয় না: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক: তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য আপাত্তিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান যে ‘আমি কাকে কী বিক্রি করব, সেটা কেউ ঠিক করে দেয় না’। 

গতকাল সোমবার (২৭ জুলাই) এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ন্যাটো মিত্র তুরস্কের প্রশংসা করেন এবং এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। 

হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের মাত্র একদিন আগে ট্রাম্প তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের সঙ্গে তাঁর চমৎকার সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং নেতানিয়াহুর বিপরীত অবস্থান সত্ত্বেও ট্রাম্প তুরস্ককে শক্তিশালী সামরিক ক্ষমতার অধিকারী এক অনন্য পরাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। 

এর আগে নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুরস্ককে চরমপন্থী মুসলিম ব্রাদারহুড ভাবধারার অনুসারী বলে আখ্যা দিয়ে তাদের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা এর ইঞ্জিন বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে ট্রাম্প এই বিমানে দেওয়া বক্তব্যে জানান যে আঙ্কারা ইসরায়েল বা নেতানিয়াহুর ভক্ত না হলেও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তারা ওয়াশিংটনের দারুণ সহযোগী। মূলত ২০২০ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার অপরাধে আঙ্কারাকে আমেরিকার এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্পের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে তুরস্ক এখনও এস-৪০০ ব্যবস্থা সম্পর্কিত শর্ত পূরণ করতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্টারিং আমেরিকার অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্টের অধীনে থাকা এসব আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা এখনও পুরোপুরি না মিটলেও ট্রাম্প আঙ্কারাকে যুদ্ধবিমান প্রদানের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। তুর্কি সরকারের ওপর থাকা এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিলেও মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি আপাতত আইনি শর্ত বাস্তবায়নের দিকেই নির্দেশ করছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

Related Articles

Back to top button