আলোচনায় সাহাবুদ্দিনের দায়মুক্তি ও বিচারের দাবি

নতুন রাষ্ট্রপতি সেপ্টেম্বরে
অনলাইন ডেস্ক: অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় দেশের ২৩তম নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে আগস্টের শেষার্ধে। নির্বাচন কমিশন ঐ সময়ে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করলে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া চলতি ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন চলাকালেই নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি।
ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট অধিবেশন) অধিবেশন শেষ হয়েছে গত ১৫ জুলাই। সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী আগামী ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধিবেশন ডাকতে হবে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের কারণে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই অধিবেশন বসতে পারে। আর সংবিধান অনুযায়ী এই অধিবেশন আহ্বান করবেন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গতকাল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। শুক্রবার ছিল ২৪ জুলাই। সে হিসাবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় আছে। সুতরাং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। আশা করি, সেপ্টেম্বরে হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনেই এটা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। তবে, বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নজির একবারই রয়েছে। ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া
জানা গেছে, আগস্টের শেষার্ধে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করবে এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
সংবিধানে ৯০ দিনের মধ্যে বলা হলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নজিরও রয়েছে। ২০১৩ সালের ১১ মার্চ তত্কালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন তখনকার স্পিকার আবদুল হামিদ। ৯ এপ্রিল তপশিল ঘোষণার পর ২১ এপ্রিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ তপশিল ঘোষণা করা হয়, ভোটের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২২ এপ্রিল দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। সবশেষ ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি তপশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় শেষে ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির গেজেট প্রকাশ করা হয়। বিনা ভোটে নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী- মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে তা পূরণের জন্য নির্বাচন করতে হবে। যেহেতু মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের কারণে শূন্য হলো পদ, সেক্ষেত্রে আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সেই অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন এখন ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতি শুরু করবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হন সংসদ সদস্যরা। এ লক্ষ্যে ভোটার তালিকা তৈরিসহ সার্বিক বিষয়ে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সিইসি থাকেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘নির্বাচনি কর্তা’।
রেওয়াজ অনুযায়ী, স্পিকারের সাক্ষাৎ চেয়ে কমিশন থেকে সংসদ সচিবালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এরপর জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের বিভক্তি সংখ্যা, নাম ও নির্বাচনি এলাকাগুলো তুলে ধরে চিঠিটি পাঠানো হয়। স্পিকার ও সিইসির বৈঠকের পর তপশিল ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা সারে নির্বাচন কমিশন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন। ত্রয়োদশ সংসদে এবার সংসদ সদস্য রয়েছেন ৩৪৯ জন; একটি আসনের গেজেট প্রকাশ হয়নি। নির্বাচন কমিশন তপশিল ঘোষণা করলে তাতে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ ও স্থান থাকবে। ভোটের স্থান হবে অধিবেশন কক্ষ। নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করবে।
আইন অনুযায়ী, নির্বাচনি কর্মকর্তা নির্ধারিত দিন, সময় ও স্থানে মনোনয়নপত্র যাচাই করবেন। প্রার্থী একজন হলে এবং যাচাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ বিবেচিত হলে কমিশন তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে। তবে, একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে নির্বাচনের জন্য তাদের নাম ঘোষণা করবে কমিশন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।
একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে নির্বাচনি কর্তা ভোটের আয়োজন করবেন। নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে নিজের সই দিয়ে তা জমা দেবেন সংসদ সদস্যরা। ভোটের দিন গ্যালারিসহ সংসদ কক্ষে প্রার্থী, ভোটার, ভোট নেওয়ায় সহায়তাকারী কর্মকর্তা ছাড়া সবার প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত থাকবে। ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করবেন। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্তকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর সমান ভোট পেলে প্রার্থীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে। রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি নির্বাচন হলেও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার দলীয় প্রার্থীই নির্বাচিত হয়ে থাকেন।
প্রসঙ্গত, চলতি ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপির আসন ২১০টি। জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলে বসেছে। দলটির নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। আনুপাতিক হারে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনেও বিএনপি ও মিত্রদের সদস্য বিরোধীদলের চেয়ে বেশি। ফলে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, এতে সন্দেহ নেই।
বিএনপি প্রথমে দলের স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করবে, পরে চূড়ান্ত হবে সংসদীয় দলের সভায়
জানা গেছে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কাকে করা হবে- তা নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি প্রথমে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করবে। এরপর সংসদ ভবনে দলের সংসদীয় দলের সভা ডেকে সেখানে নাম চূড়ান্ত করা হবে। সংসদ নেতা, দলের সংসদীয় দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐ সভায় সভাপতিত্ব করবেন। নিয়ম অনুযায়ী ঐ সভায় দলের একজন রাষ্ট্রপতির নাম প্রস্তাব করবেন, আরেক জন তা সমর্থন করবেন। সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত হওয়া ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে পরবর্তীতে তা পাঠানো হবে নির্বাচন কমিশনে।
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বগুড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন-তিনি দলীয় কেউ হবেন নাকি দলের বাইরের কোনো প্রতিনিধি হবেন, সে বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, সংবিধানের আলোকে দেশের সব নিয়ম-কানুন মেনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আসন্ন বৈঠকেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী গতকাল বলেছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে দলের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতির বিচারের যে দাবি উঠেছে, সেটিও দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়।
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির যেসব নেতা আলোচনায়
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার গঠনের পর থেকেই এ পদে বিএনপির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও গত তিন দিনে সম্ভাব্যদের তালিকায় নতুন কয়েকটি নাম যুক্ত হয়েছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বাইরে থেকে নয়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়নি।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের সম্ভাব্য অনেকের নাম আলোচনায় আসে। এর মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্যতম। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় এসেছে। অতি সম্প্রতি এ আলোচনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি ও মানবাধিকার নেত্রী হিসেবে খ্যাত আইরিন খানের নামও যুক্ত হয়। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও আলোচনায় রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে আজ বঙ্গভবনে যাবেন হাফিজ উদ্দিন, থাকবেন স্পিকারের বাসভবনেই
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে আজ রবিবার বঙ্গভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের। বঙ্গভবনে তিনি রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে, তিনি বসবাস করবেন জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই। গতকাল গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানান।
এদিকে, সংসদ প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবন এবং এর আশপাশের এলাকায় রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুক্রবার বিকাল থেকে কার্যকর করা হয়েছে। অন্যদিকে, পদত্যাগী মো. সাহাবুদ্দিন আজ বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশানের বাসায় উঠতে পারেন।
আলোচনায় সাহাবুদ্দিনের দায়মুক্তি ও বিচারের দাবি
মেয়াদের আগেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি তুলেছে কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন। তার পদত্যাগের পরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এই দাবি তোলা হয়। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতিকে বিচারের আওতায় আনা যাবে, নাকি তার দায়মুক্তি আছে- সে বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিরোধী দলগুলো বলছে, মো. সাহাবুদ্দিন ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ‘দোসর’। এ কারণে তার বিচার হওয়া দরকার। আবার কারো কারো মতে, মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫১ ধারা মোতাবেক দায়মুক্তি পাবেন। ফলে তাকে বিচারের আওতায় আনা যাবে না।
সংবিধানের ৫১(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, ‘রাষ্ট্রপতি তাহার কার্যভার পালনকালে বা কার্যভার পালনের উদ্দেশ্যে সম্পাদিত বা সম্পাদন করিয়াছেন বলিয়া অভিপ্রেত কোনো কার্য সম্পর্কে কোনো আদালতের নিকট জবাবদিহি করিতে বাধ্য হইবেন না; তবে এই দফা সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদের অধীন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন আনয়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।’ ৫১(২)এ বলা আছে, ‘রাষ্ট্রপতির কার্যকালীন সময়ে তাহার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের বা অব্যাহত রাখা যাইবে না এবং তাহাকে গ্রেফতার বা আটক করার জন্য কোনো আদালত হইতে পরোয়ানা জারি করা যাইবে না।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানের এই সুরক্ষা রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন সময়ের জন্য। পদ থেকে অপসারণ কিংবা পদত্যাগের পর আর এই সুরক্ষা থাকে না। মূলত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার কর্মকাণ্ডকে সুরক্ষা দেয়। রাষ্ট্রপতি পদে আরোহণ ও ছাড়ার পর সেটা বিবেচনায় আসবে না।
সংবিধানের ৫১(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে, ‘রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত ক্ষমতায় সম্পাদিত বা সম্পাদন করিয়াছেন বলিয়া অভিপ্রেত কোনো কার্য সম্পর্কে প্রতিকার দাবি করিয়া তাহার বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি কার্যধারা তাহার কার্যকালীন সময়ে কোনো আদালতে দায়ের করা যাইবে না, যদি না কার্যধারা আরম্ভের কমপক্ষে দুই মাস পূর্বে তাহার নিকট লিখিতভাবে নোটিশ প্রদান করা হয়; এবং উক্ত নোটিশে কার্যধারার প্রকৃতি, কারণ, দাবিদারের নাম, বিবরণ ও বাসস্থানের স্থান এবং তিনি যে প্রতিকার দাবি করেন, তাহা উল্লেখ থাকে।’




