চট্টগ্রামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা

২ কোটি টাকা চাঁদা দাবিকারী ‘ডেভিড ইমন’ কোথায় জানে না পুলিশ, আট জন গ্রেপ্তার
অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরে ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এ চাঁদা না পেয়ে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আট জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। তবে হামলার আগে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ফোনে ২ কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’-এর অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই পুলিশের কাছে। এমনকি তিনি দেশে নাকি বিদেশে অবস্থান করছেন, সেটিও নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। গতকাল বুধবার দামপাড়ায় সিএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে প্রথমে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এর দুই দিন পর ১৩ জুলাই দুপুরে চকবাজার থানার মনুমিয়াজী লেইনের মরিয়ম হাইটস ভবনে অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা অফিস জুড়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম নষ্ট করে এবং নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুটে নিয়ে যায়। জানা গেছে, সন্ত্রাসীরা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অরিফুল ইসলামের ব্যাগও লুট করে নিয়ে যায়। ঐ ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আট জনকে। তাদের নাম মো. ইউনুস, ইমরান হোসেন চ্যাং, আকবর হোসেন, মো. সুমন, গিয়াস উদ্দিন, মো. নয়ন, আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ এবং মো. মনির প্রকাশ কেহেরমান। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা এবং হামলার সময় তাদের ভূমিকা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এজন্য আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করা হবে। তিনি জানান, গ্রেপ্তার মো. ইউনুসের বিরুদ্ধে পাঁচটি, ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি, আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি, মো. সুমনের বিরুদ্ধে ছয়টি, মো. মনির ওরফে কেহেরমানের বিরুদ্ধে সাতটি এবং মো. নয়নের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও কল প্রসঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়েন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। ঐ অডিওতে এক ব্যক্তি নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ডিডিএন কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিচ্ছিল শোনা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, এরকম পরিচয় অনেকেই দিতে পারে। সন্ত্রাসীরা নিজেদের বাঁচাতে নানা ধরনের কথা বলে থাকে। পুলিশের তালিকাভুক্ত এই সন্ত্রাসীকে পুলিশ কমিশনার চেনেন কি না, এমন প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। একই সঙ্গে স্বীকার করেন, হত্যা মামলাসহ অর্ধডজনের বেশি মামলার আসামি ডেভিড ইমন বর্তমানে দেশে নাকি বিদেশে অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, ডেভিড ইমন বিদেশে পলাতক তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদ’-এর অনুসারী। সামপ্রতিক সময়ে বড় সাজ্জাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে খুন, চাঁদাবাজি, সশস্ত্র হামলা ও দখলবাজির অভিযোগ বাড়ছে। একের পর এক সহিংস ঘটনায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিডিএনে সংঘটিত হামলাটিও সংগঠিত চাঁদাবাজ চক্রের আধিপত্য বিস্তারের অংশ হতে পারে।




