আসামি সোহেল

আর্থিক অনটন, পারিবারিক অশান্তির কারণে অবচেতন মনে রামিসা হত্যাকান্ড

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। জেল আপিলে দেওয়া এক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি দাবি করেন, তীব্র আর্থিক অনটন, পারিবারিক অশান্তি এবং অতিরিক্ত মাদকাসক্ত থাকার কারণেই অবচেতন মনে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে গেছে। নিজের একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের চরম বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে এই অপরাধের জন্য আদালতের কাছে তিনি প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন।

গতকাল রোববার (১৪ জুন) হাইকোর্ট বেঞ্চে জেল আপিল শুনানিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা নিজের স্বপক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, তিনি আর্থিকভাবে অত্যন্ত অসচ্ছল। পেশায় অটোরিকশা গ্যারেজের মিস্ত্রি হওয়ায় তিনি নিয়মিত ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকে আসক্ত ছিলেন। মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে পরিবারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত বলে তিনি জানান। তবে ইতঃপূর্বে তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন।

আসামি জবানবন্দিতে আরও বলেন, ভিকটিমের সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘটেছে। তার ভাষ্যমতে, আর্থিক অভাব, পারিবারিক অশান্তি ও নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ও অবচেতনভাবে হয়েছে। কীভাবে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা তিনি বুঝতে পারেননি বলে দাবি করেন। তার একটি মাত্র ছেলের পড়াশোনা ও পরিবারের ভরণ-পোষণ করার মতো আর কেউ নেই উল্লেখ করে তিনি আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

অন্যদিকে, এই মামলার অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জেল আপিলে খালাস চেয়েছেন। গত ১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাইকোর্টে জেল আপিল করেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই আসামি। রোববার হাইকোর্ট আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন।

Related Articles

Back to top button