বিয়ের পরেই হারিয়ে গেলেন ‘গজনি’র সেই নায়িকা

অনলাইন ডেস্ক: বলিউডে তারকাদের যেখানে দশকের পর দশক কেটে যায় নিজেদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে, সেখানে মাত্র ৩০ বছর বয়সে খ্যাতির চূড়ায় দাঁড়িয়ে অভিনয় জগৎকে বিদায় জানানোর নজির দেখা যায় অভিনেত্রী আসিন থোট্টুমকালের বেলায়। 

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সুপারস্টার থেকে বলিউডের প্রথম ১০০ কোটির সিনেমার নায়িকা—সব অর্জন রয়েছে তার তালিকায়।

২০০৮ সালে মুক্তি পায় আমির খান অভিনীত ‘গজনি’ ছিল বলিউডের প্রথম ১০০ কোটি রুপি আয় করা চলচ্চিত্র। এটি ছিল তামিল গজনির হিন্দি রিমেক।

 

এ সিনেমায় আমিরের সিক্স প্যাক বডি যেখানে আলোচনার তুঙ্গে। সেই হাই-ভোল্টেজ অ্যাকশনের মাঝেও যে চরিত্রটি দর্শকদের মন ছুঁয়েছিল, তা হলো চনমনে ও দয়ালু মডেল ‘কল্পনা’। এতে অসিনের সাবলীল অভিনয়ই ছিল এই ট্র্যাজিক লাভ স্টোরির মূল চালিকাশক্তি। 

‘গজনি’ শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যই পায়নি, ইতিহাসও সৃষ্টি করে। এটি এক রাতের মধ্যেই আসিন সারা ভারতের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

‘গজনি’র সাফল্যের পর বলিউডে আসিনের চাহিদা বেড়ে যায়। তিনি অভিনয় করেন—সালমান খানের সঙ্গে ‘রেডি’, অক্ষয় কুমারের সঙ্গে ‘হাউসফুল ২’ ও ‘খিলাড়ি ৭৮৬’, অজয় দেবগনের সঙ্গে ‘বোল বচ্চন’, অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে ‘অল ইজ ওয়েল’। এই ছবিগুলোর বেশির ভাগই বক্স অফিসে সফল হয়।

বিশেষ করে ‘রেডি’, ‘বোল বচ্চন’ ও ‘হাউসফুল ২’ তাকে বলিউডের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক নায়িকাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনযায়ী, ২০১৫ সালে অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে ‘অল ইজ ওয়েল’ ছিল অসিনের কেরিয়ারের শেষ সিনেমা।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আসিন বিয়ে করেন রাহুল শর্মাকে, যিনি ভারতীয় মোবাইল কোম্পানি মাইক্রোম্যাক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা। 

মজার বিষয় হলো, এই সম্পর্কের সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন অক্ষয় কুমার। অক্ষয়ই রাহুলের সঙ্গে আসিনের পরিচয় করিয়ে দেন। হিন্দু ও খ্রিষ্টান—দুই ধর্মীয় রীতিতেই তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর আসিন পুরোপুরি অভিনয়জগৎ থেকে সরে দাঁড়ান।

বিয়ের পর অন্যান্য অভিনেত্রীরা যেখানে কামব্যাকের চেষ্টা করেন, অসিন সেখানে সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটেন। স্বামী, সন্তান ও সংসারকে সময় দিতে মাত্র ৩০ বছর বয়সেই অভিনয় দুনিয়াকে সম্পূর্ণ ‘আলবিদা’ জানান তিনি। ২০১৭ সালে এই দম্পতির কোল আলো করে আসে কন্যাসন্তান আরিন রায়ন শর্মা।।

এর পর থেকে পরিবারই হয়ে ওঠে আসিনের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। খুব কমই জনসমক্ষে দেখা যায় তাকে। স্যোশাল মিডিয়ায়ও নিয়মিত নন তিনি। 

মাঝেমধ্যে মেয়ের জন্মদিন বা বিশেষ পারিবারিক মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করেন। অনেক ভক্ত তার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকলেও এখন পর্যন্ত সে ধরনের কোনো ইঙ্গিত দেননি।

রাহুল শর্মা একসময় ভারতের মোবাইল বাজারে আলোড়ন তোলা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোম্যাক্সের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। চীনা ব্র্যান্ডগুলোর আগ্রাসনে কোম্পানির বাজার কমে গেলেও রাহুল এখনও ভারতের প্রযুক্তি খাতের পরিচিত উদ্যোক্তা। 

বর্তমানে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে পরিবার নিয়ে বিলাসবহুল কিন্তু তুলনামূলক ব্যক্তিগত জীবন যাপন করছেন আসিন।

Related Articles

Back to top button