বৃথা শাদাবের লড়াই, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১ রানে হারল পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক: লাহোরে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ পর্যন্ত আর পেরে উঠল না পাকিস্তান। শাদাব খানের অনবদ্য ও লড়াকু ব্যাটিং জয়ের আশা জাগালেও শেষ রক্ষা হয়নি। সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪১ রানের ব্যবধানে হেরে গেছে স্বাগতিকরা। এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ের মাধ্যমে সিরিজে সমতায় ফিরল অস্ট্রেলিয়া।
২৩২ রানের মাঝারি লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ৭৮ রান তুলতেই তারা হারিয়ে বসে প্রথম সারির ৬টি উইকেট। রান তাড়ায় পাকিস্তানের শুরুটা ছিল একেবারেই হতাশাজনক। দলীয় ৪ রানেই মাজ সাদাকাতের বিদায় দিয়ে যে ধাক্কা শুরু হয়, তা একে একে সাহিবজাদা ফারহান, বাবর আজম ও সালমান আগার উইকেট পতনের মাধ্যমে আরও ঘনীভূত হয়।
এমন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে সপ্তম উইকেট জুটিতে আরাফাত মিনহাসকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন শাদাব খান। এই দুজনে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন মূল্যবান ৫৯ রান। এরপর অষ্টম উইকেটে শাহিন আফ্রিদির সঙ্গে ৩১ রান এবং নবম উইকেটে হারিস রউফের সঙ্গে ২১ রানের আরও দুটি ছোট ছোট জুটি গড়ে পাকিস্তানকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন শাদাব।
তবে ইনিংসের ৪৪তম ওভারের শেষ বলে হারিস রউফ এবং ঠিক তার পরের ওভারের অর্থাৎ ৪৫তম ওভারের প্রথম বলে ব্যক্তিগত ৭১ রান করা শাদাব খান আউট হয়ে গেলে পাকিস্তানের ইনিংসের যবনিকা ঘটে। ফলে ৪১ রানের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া। অজি বোলারদের মধ্যে নাথান এলিস দুর্দান্ত বোলিং করে ৪টি উইকেট শিকার করেন।
এর আগে, ম্যাচে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই বড় ধাক্কা খেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। শাহিন আফ্রিদির চমৎকার এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার অ্যালেক্স ক্যারি। আরেক ওপেনার ম্যাথু শর্টও নিজের ইনিংসটিকে খুব বেশি বড় করতে পারেননি, ১৮ রান করে তিনি যখন বিদায় নেন তখন দলের সংগ্রহ ৪৬ রান। এমনকি মারনাস লাবুশেনও আজ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন, তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৫ রান।
টপ অর্ডারের এমন ব্যর্থতার পরও লাহোরের স্পিন সহায়ক উইকেটে অস্ট্রেলিয়া যে ২৩১ রানের লড়াকু পুঁজি গড়তে সক্ষম হয়েছে, তার মূল কৃতিত্ব জশ ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিনের। এই দুই ব্যাটারই দলের পক্ষে দারুণ দুটি হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন। এছাড়া ম্যাট রেনশর ৪৩ এবং অলিভার পিকের ৩১ রানের দুটি কার্যকরী ইনিংস দলকে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করে। পাকিস্তানের বল হাতে ৩৬ রান খরচায় ৩টি উইকেট শিকার করেন শাহিন আফ্রিদি। এছাড়া স্পিনার আরাফাত মিনহাস ও আবরার আহমেদ প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট নিজের ঝুলিতে পুরেন।




