টাকা, জমি ও রাস্তা নিয়ে দ্বন্দ্বে চার জেলায় চার খুন

অনলাইন ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, নাটোর ও লালমনিরহাটে পাওনা টাকা, জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে চার জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।  পটুয়াখালীতে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এছাড়া ফরিদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন ঘাতককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব ঘটনা ঘটেছে।

নাটোর প্রতিনিধি জানান, জেলার নলডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়ের লাঠির আঘাতে মনির হোসেন (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মৃতু্যু হয় তার। নিহত মনির হোসেন উপজেলার ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের কালিয়ারবাড়ি ইয়ারপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের  ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। শনিবার সকালে জমির আইল নিয়ে তাদের মধ্য বাগিবতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়েন। এতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী ও মহিদুল ইসলামের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন মনির হোসেন। তাত্ক্ষণিকভাবে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা জানান, জেলার পাটগ্রামে চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের মারপিটে দুলাল হোসেন (৪৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। গত শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পাটগ্রাম পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অটোরিকশাচালক দুলাল হোসেন ও অপর পাঁচটি পরিবার ভান্ডারদহ গ্রাম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। এসব পরিবারের গাড়ি নিয়ে বসতবাড়িতে চলাচলের কাঁচা রাস্তা একই এলাকার মুকুল হোসেনের বাড়ির সামনে দিয়ে হওয়ায় তিনি (মুকুল হোসেন) নিজের জমি দাবি করে প্রায়ই এ রাস্তা বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে কয়েক বার সালিশ বৈঠক করা হয়। গত শুক্রবার সকালে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঐ রাস্তা আবারও বন্ধ করে দেন মুকুল হোসেন। এ নিয়ে পরদিন শনিবার রাত ৮টার দিকে দুই পক্ষে ঝগড়া হয়। এ সময় মুকুল হোসেন ও অন্যরা মিলে দুলালকে বেধড়ক মারধর করেন। স্থানীয়রা দুলালকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুলাদী (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, আল আমিন হাওলাদার (২৩) নামের এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন হাওলাদার ঐ ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের হানিফ হাওলাদারের ছেলে। পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মো. সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে নোমান পণ্ডিত ও আজিজুল সরদার নামে দুজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে নুরুদ্দিন হাওলাদার (৩২) নামে নির্মাণকাজের ঠিকাদারকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিন দিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন থাকার পর গতকাল রবিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। নিহত নুরুদ্দিন হাওলাদার ভোলা জেলার সদর উপজেলা পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের মালেরহাট গ্রামের সেলিম হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা নিউটাউন আবাসিক এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করে নির্মাণকাজের ঠিকাদারি করতেন।

স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের গঙ্গানগর এলাকার আব্দুর রবের বাড়ির নির্মাণকাজের দায়িত্ব নেন নুরুদ্দিন। কাজ শেষ হলেও বকেয়া টাকা পরিশোধ না করে উলটো তাকে আরো কাজ করার জন্য চাপ দেওয়া হতো। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। নিহতের স্ত্রী মাইমুনা আক্তার বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকালে আব্দুর রব ও তার দুই ছেলে জাহিদ হূদয় ও মেহেদি হাসান শুভ বাসায় এসে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে রাস্তায় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার স্বামীকে এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে পালিয়ে যায়।

Related Articles

Back to top button