হঠাৎ আলোচনায় জঙ্গি!

- আট বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার
- পুলিশ সদর থেকে সতর্ক করে চিঠি দেওয়ার পরই বিষয়টি আলোচনায়
অনলাইন ডেস্ক: হঠাৎ করেই আলোচনায় এসেছে জঙ্গি! গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পুলিশের সব ইউনিটে চিঠি দেওয়ার পরই বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তার জোরদার করার পাশাপাশি গতকাল সোমবার রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ আটটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে। অন্য পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর।
দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সরকারি স্থাপনায় একটি নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদরদপ্তরের ডিআইজি (গোপনীয়) কামরুল আহসানের সই করা একটি দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার এই সতর্কতা জারি করা হয়। এর পরই গতকাল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানায়, একটি জঙ্গিগোষ্ঠী হামলা চালানোর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে পুলিশ সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা, নজরদারি বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। বেবিচক উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করে। বিমানবন্দরের কর্মরত সব বাহিনীকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের একটি চিঠির পর দেশের আটটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দরগুলো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাভুক্ত (কেপিআই) হওয়ায় সব সময়ই কঠোর নিরাপত্তাবলয়ে থাকে। তবে ঐ চিঠি পাওয়ার পর নিরাপত্তা আরো বাড়ানো হয়েছে। এটি নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিমানবন্দরে বেবিচকের নিজস্ব এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) ছাড়াও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। ফলে আগে থেকেই নিরাপত্তা রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান (সিটিটিসি) যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেছেন, ‘আমরা তথ্য পেয়েছি, কাজ করছি। পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠিটি রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটে পাঠিয়ে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এই চক্রটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা; যেমন—জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং শাহবাগ ম্যুরালসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে চিঠিতে।’
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, তারা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও গ্রহণ করে থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্যের ইঙ্গিত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিপ্রেক্ষিতে চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সেনাবাহিনী থেকে ইতিমধ্যে দুই সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া অন্য একটি সংস্থা থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে আট জন অফিসার রয়েছেন। তাদের সঙ্গে তেহেরিক-ই-তালিবান অব পাকিস্তানের (টিটিপি) যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে দুই জন বিমানবন্দর দিয়ে পাকিস্তান যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে তাদের অফলোড করে গ্রেফতার হয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে সরকারের কোনো সংস্থা থেকে পরিষ্কার করে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি।



