মৌলিক সংস্কার সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হয়েছে: হামিদুর রহমান আযাদ

অনলাইন ডেস্ক: বর্তমান সরকারের সংস্কার কর্মকাণ্ড ও দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুর শহরতলির মুসলিম মিশন মিলনায়তনে আয়োজিত ফরিদপুর অঞ্চলের উপজেলা ও পৌরসভা দায়িত্বশীল সম্মেলনে তিনি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জাতীয় সংসদে মৌলিক সংস্কার সম্পর্কিত যে অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যেগুলো পাস করা হয়েছে, সেগুলোকে প্রকৃত অর্থে মৌলিক সংস্কার বলা চলে না।
সরকারপ্রধানের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে তারা দলীয় প্রতীকের পক্ষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেও সমর্থন চেয়েছিলেন। একই তফসিলের দুটি ভোটে অংশ নিয়ে একটির শপথ গ্রহণ আর গণভোটের রায়কে ছুড়ে ফেলা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। তিনি উল্লেখ করেন, দেশ কোনো দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়, বরং এটি সবার বাংলাদেশ। অধিকাংশ জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার অবস্থান নিলে দেশের মানুষ তাদের ক্ষমা করবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এই অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে বিএনপি কি আবারও আয়নাঘর তৈরি বা গুমের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে বিরোধী দলকে দমন করতে চাচ্ছে? গত বৃহস্পতিবার ডাকসু নেতাদের ওপর থানা প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত ভয়ংকর ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত থানার ভেতরেই ছাত্রনেতারা হামলার শিকার হয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সরকারের উদ্দেশে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি তাদের দলের মাস্তানদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণই তাদের প্রতিহত করবে। তিনি প্রয়োজনে আবারও জুলাইয়ের মতো আন্দোলনের ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপিকে জনগণের ভাষা বোঝার পরামর্শ দেন। জামায়াতের এই নেতা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন যে, জনগণের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ দেশ পরিচালনা করতে চাইলে জনগণ তা আর সহ্য করবে না।




