ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র হামালা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক: লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ৩৯টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে বলে দাবি করেছে। 

গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বসতি এলাকা, সেনা সমাবেশ, সামরিক যানবাহন এবং দক্ষিণ সীমান্ত সংলগ্ন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। 

এছাড়া উত্তর ইসরায়েলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও এই অভিযানের আওতায় ছিল বলে তারা উল্লেখ করেছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, তাদের এই আক্রমণগুলো ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং এগুলো ইসরায়েলি সামরিক সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান ও চলাচলের ওপর ব্যাপক নজরদারি চালিয়ে এসব হামলা করা হয়।

তবে হিজবুল্লাহর এই দাবির বিপরীতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সাধারণত সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখলেও এসব হামলার ভয়াবহতা বা সংখ্যা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে উত্তজনা চরমে পৌঁছেছে, যার ফলে উভয় পক্ষই একে অপরের লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত আক্রমণ চালাচ্ছে। হিজবুল্লাহর এই বড় ধরনের হামলার দাবি মূলত ওই অঞ্চলে চলমান সংঘাতের তীব্রতাকেই নির্দেশ করে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এক দিনে ৩৯টি অভিযানের এই পরিসংখ্যান যুদ্ধের ময়দানে হিজবুল্লাহর ক্রমবর্ধমান শক্তির বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েলও সীমান্ত এলাকায় নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সীমান্তবর্তী এই অব্যাহত সংঘাতের ফলে উভয় দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দারা নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকির মুখে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানালেও হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং এক পক্ষের হামলার পর অন্য পক্ষের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Related Articles

Back to top button