বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক: ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কর্তৃক নৌ-অবরোধ আরোপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। 

আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) লেনদেনের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সোমবার সকাল থেকে ইরানি উপকূলে সব ধরনের নৌ-চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ লেনদেনের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪.২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ১০২.২৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি মাত্র ৭০ ডলারের কাছাকাছি। তবে যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিভিন্ন সময়ে এই দাম ১১৯ ডলারও ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনার খবরের প্রেক্ষাপটে তেলের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছিল। সে সময় জুন মাসে সরবরাহের জন্য তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫.২০ ডলারে নেমে এসেছিল। 

কিন্তু দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়া এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান ত্যাগের পর পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছে। কূটনীতির পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং সরাসরি নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ায় বাজার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি এবং ইরানি বন্দরগুলোতে এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের সংকট আরও তীব্র হবে। এর ফলে বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর চরম মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে। 

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর থাকা সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তেলের এমন উচ্চমূল্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পশ্চিমের অনেক দেশ এই পরিস্থিতিতে বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান করলেও স্বল্প সময়ে তেলের বাজারের এই অস্থিরতা কমানো সম্ভব নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা।

Related Articles

Back to top button