এক-এগারোতে তারেক রহমানকে নির্যাতন

তৎকালীন সেনাপ্রধানের ওপরই দায় চাপাচ্ছেন সাবেক তিন সেনা কর্মকর্তা
মামুন-খালেদ ফের ছয় দিনের রিমান্ডে
অনলাইন ডেস্ক: এক-এগারোর পটভূমি এবং ঐ সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনে নিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধানের ওপর দায় চাপাচ্ছেন রিমান্ডে থাকা তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তা। এদের মধ্যে লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছের ছয় দিনের রিমান্ডে আছেন। আর লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গতকাল মঙ্গলবার আবার ছয় দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রিমান্ডে থাকা সাবেক তিন সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দীন চৌধুরী, শেখ মামুন খালেদ ও আফজাল নাছেরকে জিজ্ঞাসাবাদ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের সিদ্ধান্তেই তখন সবকিছু হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কারা নির্যাতন করেছেন, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে কারা ছিলেন? এসব প্রশ্নের উত্তরে তারা জানিয়েছেন, সবকিছুই হয়েছে তখনকার সেনাপ্রধানের নির্দেশে।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তা বলেন, ওয়ান ইলেভেনের পুরোটা সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের পার্ট দেখভাল করতেন মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন। বিএনপির অংশ দেখতেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ফজলুল বারী। শুরুর চার/পাঁচ মাস এভাবে চললেও একপর্যায়ে সবকিছুই সমন্বয় করতে শুরু করেন এটিএম আমিন। গুরুত্বহীন হয়ে পড়েন বারী। ওয়ান ইলেভেন শুরুর কিছুদিন পর থেকেই এটিএম আমিনের হয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু করেন মামুন খালেদ। মামুনের হয়ে কাজ করতেন লে. কর্নেল (বরখাস্ত) আফজাল নাছের। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি চাকরি থেকে বরখাস্ত হন। বেগম খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিত্সা না দেওয়ার জন্য নেপথ্যেও অগ্রণী ভূমিকা রাখেন এই আফজাল নাছের।
জিজ্ঞাসাবাদকারী সূত্র জানিয়েছে, ওয়ান ইলেভেনের সময় মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিনের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন তৎকালীন মেজর সুলতানুজ্জামান সালেহ। শুরুতে তাকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরে (ডিজিএফআই) এটাচমেন্টে নিয়ে আসেন মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন। ‘জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা হয়। তিনি সারা দেশে ব্যাটালিয়ন অধিনায়কদের সঙ্গে অপারেশন সমন্বয় করতেন। পরবর্তীকালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর তিনি ডিজিএফআইতে সিটিআইবির কর্নেল ‘জিএস’ হিসেবে পদোন্নতি পান। সবশেষ মেজর জেনারেল হয়ে অবসরে যান। ইভিএম মেশিন কেলেঙ্কারিসহ নানা ধরনের গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ডিবির কাছে দাবি করেছেন, ২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত করার আগেই দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রীকে তা অবহিত করা হয়েছিল। ঐ সময় সরকারের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৎকালীন প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তারা প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের খসড়াও তাদের দপ্তর থেকেই নির্ধারিত হতো।
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে আবার ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ দেয়। এর আগে এই মামলায় মামুন খালেদকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গতকাল তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামুন খালেদকে ২৫ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর একটি এলাকা থেকে আটক করে ডিবি। মামুন খালেদ ২০০৭-০৮ সালের সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের শেষ দিকে ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তিনি একই পদে ছিলেন। এরপর ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হন তিনি। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন।


