মার্কিন কমান্ড সেন্টারে ইরানের মুহুর্মুহু হামলা

অনলাইন ডেস্ক: ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এক ধারাবাহিক শক্তিশালী ও দ্রুতগতির হামলা চালিয়েছে।
গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) পরিচালিত এই অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গোপন মার্কিন কমান্ড সেন্টার এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কমান্ডারদের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা হয়েছে।
‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৮৭তম ধাপের অংশ হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানে আইআরজিসি নৌবাহিনী মোট চারটি সফল ও দ্রুতগতির অপারেশন সম্পন্ন করেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
আইআরজিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে তাদের গোয়েন্দা ও অপারেশনাল যোদ্ধারা একটি সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমান ঘাঁটির বাইরে স্থাপিত মার্কিন সন্ত্রাসী কমান্ডারদের একটি গোপন কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার নিখুঁতভাবে ধ্বংস করেছে। হামলার সময় ওই সেন্টারে ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন কমান্ডার ও মধ্যম সারির কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন এবং হামলাটি পরিচালনার জন্য অত্যন্ত নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্য একটি সমন্বিত অভিযানে বাহরাইনের মূল ব্যারাকের বাইরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কমান্ডারদের গোপন আস্তানা ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সেখানে কমান্ডারদের একটি বৈঠক চলাকালীন এই হামলা চালানো হয় এবং পরবর্তীতে ওই এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাপক আনাগোনা লক্ষ্য করে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আন্দাজ করা গেছে বলে আইআরজিসি দাবি করেছে।
একই দিনে আইআরজিসি নৌবাহিনী একটি তৃতীয় দেশের পতাকাবাহী এবং ইসরায়েলের মালিকানাধীন ‘এক্সপ্রেস রুম’ নামের একটি কন্টেইনার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের দাহরান অঞ্চলের উপকূলে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর একটি আর্লি ওয়ার্নিং রাডারও নিখুঁতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
এই রাডারটি মূলত মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হতো। ইরানের দাবি অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই অপারেশনগুলো পরিচালনা করা হয়েছে যা ওই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক সক্ষমতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে হত্যার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জোট ইরানের বিরুদ্ধে এক বিশাল সামরিক অভিযান শুরু করে।
গত এক মাস ধরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও অসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলার জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে এই পাল্টা হামলাগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে চালানো প্রতিটি হামলার বদলা হিসেবে এই ধরনের প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এক চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।




