কারখানায় তৈরি হচ্ছিল নকল শিশুখাদ্য, উদ্ধার ক্ষতিকারক রাসায়নিক

অনলাইন ডেস্ক: শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ভেজাল জুস ও এডিবেল জেলি উৎপাদনকারী একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার (৯ মার্চ) উপজেলার আরশিনগর এলাকায় অবস্থিত ‘ফিবা ফুড এন্ড বেভারেজ’ নামক প্রতিষ্ঠানে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় আট ধরনের নকল শিশুখাদ্য এবং ওই খাদ্য তৈরির ক্ষতিকারক রাসায়নিক উদ্ধার করা হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের শরীয়তপুর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরকুমারিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাবরুল এস এম হক নামের এক ব্যবসায়ী কাছের আরশিনগর গ্রামে একটি শিশুখাদ্য তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। সেই কারখানায় বিভিন্ন মেশিন বসিয়ে লিচি, আইস ললি, বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয়সহ ৮টি খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছিল। কোনো পণ্যের অনুমোদন ছিল না। পণ্যগুলো তৈরিতে কৃত্রিম সুগন্ধি, রাসায়নিকযুক্ত নকল তরল চকলেট, টেক্সটাইলে ব্যবহৃত রং ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এসময় কারখানার মালিক জাবরুল এস এম হক সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তখন ওই কারখানার তত্ত্বাবধায়ক তৌহিদুল ইসলামকে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জাবরুলের স্বজনেরা জানান, তিনি এই মুহূর্তে সৌদি আরবে রয়েছেন।
কারখানার তত্ত্বাবধায়ক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কারখানাটি পরিচালনা করছি। এখানে কোনো নকল পণ্য তৈরি করা হয় না। আর অনুমোদনের কাগজপত্র মালিকের কাছে রয়েছে। তিনি দেশে ফিরে এলেই তা দেখানো যাবে।’
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, ওই কারখানায় শিশুখাদ্য তৈরিতে যেসব ক্ষতিকারক রং ও কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছিল, তা মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। এগুলো স্থানীয় বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল। খাদ্যগুলো শিশুরা খেলে মারাত্মক স্বাস্থ্যের ঝুঁকিতে পড়বে। প্রাথমিকভাবে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর কারখানাটির অনুমোদন ও পণ্য উৎপাদনের সপক্ষে বৈধ কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে ওই সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে না পারলে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।




