ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অভিযোগে স্ত্রীকে তালাক, স্বামীর দাবি ‘পারিবারিক বিরোধ’

অনলাইন ডেস্ক: পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের পাগলিরকুল গ্রামে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে রুনা আক্তার মুন্নি (৩২) নামে এক গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্বামী নুর মোহাম্মদ সুমন দাবি করেছেন, পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে তিনি এফিডেভিটের মাধ্যমে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।

গতকাল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

রুনা আক্তারের দাবি, ভোটের আগের রাতে স্বামী তাকে জিজ্ঞাসা করেন তিনি কাকে ভোট দেবেন। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকে পরিবার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আসছে, তিনিও সেটিতেই ভোট দেবেন। স্বামী তাকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করলেও তিনি রাজষপুর আলী আজ্জম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি জানার পর স্বামী প্রথমে নীরব থাকলেও পরদিন ভোরে তাকে ও বড় ছেলেকে মারধর করে বাড়ি থেকে জমির কাগজপত্র নিয়ে বের হয়ে যান। পরে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারেন, তাকে কোর্ট থেকে তালাক দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে নুর মোহাম্মদ সুমন মোবাইল ফোনে বলেন, পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তার দাবি, রুনা আক্তার ভোটারই নন। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুনা আক্তার ভোটার তালিকাভুক্ত।

সুমন আরও জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ফেনী নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে তালাকনামা রেজিস্ট্রি করে ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে।

২০১৪ সালের ৭ নভেম্বর রুনা আক্তারের সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে মোবারক হোসেন মুরাদ (১০) ও মোহাম্মদ মোস্তাকিম হোসেন (৩) নামে দুই সন্তান রয়েছে। রাজষপুর বাজারে ‘ভাই ভাই স্টোর’ নামে সুমনের একটি দোকান আছে।

এফিডেভিটের কপিতে দেখা যায়, ১৫ ফেব্রুয়ারি ফেনীর নোটারি পাবলিক কার্যালয়ের আইনজীবী রবিউল হক রবির স্বাক্ষরে তালাকসংক্রান্ত নথি ইস্যু করা হয়। শনাক্তকারী হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মীর মোশারফ হোসেন মানিকের নাম উল্লেখ রয়েছে। তালাকনামায় সংসার পরিচালনায় অক্ষমতা ও পারিবারিক আচরণ সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রতিবেশী কাউসার আলম বলেন, বিষয়টি রুনা আক্তার তাকে জানিয়েছেন। দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আরেক প্রতিবেশী আবদুল কাদের দাবি করেন, সুমন তাকে ফোনে তালাকের বিষয়টি জানিয়ে স্ত্রীকে বাড়ি ছাড়তে বলার অনুরোধ করেন।

ঘটনা জানাজানি হলে চিথলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুন্সী নজরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার শেখ আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিমসহ নেতাকর্মীরা সুমনের বাড়িতে যান।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক অভিযোগ করেন, ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণেই তালাক দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সামাজিক অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Related Articles

Back to top button