আইসিসি এমন কিছুই করেনি যাতে আমাদের যাওয়া উচিত ছিল: ফারুক

অনলাইন ডেস্ক: ভারত ও শ্রীলঙ্কায় গতকাল থেকে শুরু হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। মেগা এই আসরে সুযোগ পেয়েও নিরাপত্তাজনিত কারণে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ দল। টাইগারদের বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে ক্রীড়া অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে বাংলাদেশ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে অন্যদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের ক্রিকেটের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদের মতে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে না দেখাটা দুঃখজনক হলেও নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টি গুরুতর ছিল। আর বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসির এই ভূমিকাও তেমন সন্তোষজনক ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলতে আপত্তি জানায় বাংলাদেশ। এ প্রেক্ষাপটে বিসিবি আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের দাবি জানায়। তবে আইসিসি সে দাবি নাকচ করে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয়। যদিও এই সিদ্ধান্তের আগে বাংলাদেশকে রাজি করাতে আইসিসি সীমিত পরিসরে কিছু উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের মতে, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে নিতে আইসিসির পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত উদ্যোগ দেখা যায়নি।
গতকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) পূর্বাচলে সিসিডিএম চ্যালেঞ্জ কাপের ফাইনাল ম্যাচ শেষে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘বিশ্বকাপে আমরা যেতে পারিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে। এর পেছনে হাজারটা কারণ ছিল। আইসিসি এমন কিছু করেনি, যাতে আমাদের যাওয়া উচিত। বিশেষ করে, প্রচলিত মানসম্মত নিরাপত্তা প্রোটোকলের বাইরে নতুন কোনো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া।’
বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা মূলত সরকারের কাছ থেকেই এসেছিল। সেটাই আবারও জানিয়ে দিয়ে ফারুক বলেন, ‘সরকার যদি আপনাকে যেতে না দেয় আপনি যেতে পারবেন না। এটা সরকারের একটা সিদ্ধান্ত ছিল যেটা ক্রিকেট বোর্ড সমর্থন করেছে। পাকিস্তান আমাদের পাশে ছিল এবং পরবর্তীতে আপনারা দেখেছেন প্রচুর সাবেক ক্রিকেটার ধারাভাষ্যকার, তারা বলেছেন যে আসলে বাংলাদেশকে এই বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত করাটা ঠিক হয়নি।’
তবে খেলোয়াড়ি জায়গা থেকে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে না দেখে দুঃখপ্রকাশ করেছেন ফারুক। তিনি বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে অবশ্যই বিষয়টি আমার ভালো লাগছে না। আমাদের কোনো খেলোয়াড়, কোনো দর্শক, কোনো সাংবাদিক কিংবা কোনো কর্মকর্তার যদি কোনো রকম দুর্ঘটনা ঘটে এবং সেটার সম্ভাবনা ছিল প্রচুর। আমরা একাধিকবার আইসিসির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। কিন্তু মানসম্মত নতুন পরিকল্পনা তারা আমাদের দিতে পারেনি।’




