রাজশাহীতে বাবার ঋণের দায়ে ছেলেকে অপহরণের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহীতে বাবার ঋণের দায়ে কারিগরি পরীক্ষার্থী এক কিশোরকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুদের কারবারিদের বিরুদ্ধে। শনিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর ভুবনমোহন পার্ক এলাকা থেকে ছেলেটিকে অপহরণ করা হয়।

গতকাল রোববার (২৩ নভেম্বর) কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের একটি ট্রেডের পরীক্ষা থাকলেও অপহরণের কারণে সে পরীক্ষা দিতে পারেনি। গত ৬ নভেম্বর থেকে তার পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। সে রাজশাহী শহরে খালার বাসা থেকে লোকনাথ স্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছিল।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, সোহান নামের এক ব্যক্তি ছেলেটিকে তুলে নিয়ে গেছে। সোহানের বাড়ি চারঘাট উপজেলার ফরিদপুর এলাকায়। এ ঘটনায় রাজশাহীর বোয়ালিয়া ও চারঘাট মডেল থানায় জিডি করতে গেলেও পুলিশ জিডি নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

এদিকে, অপহরণের সত্যতা স্বীকার করে সোহান সাংবাদিকদের বলেন, ছেলেটির বাবা সেলিম হোসেনের কাছে তার ১৪ লাখ টাকা পাওনা। ওই টাকা অন্যের কাছ থেকে এনে দিতে হয়েছে, ফলে অতিরিক্ত আরও ১৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ছেলেটির বাবা ও আত্মীয়দের ডেকেছি, কেউ আসেনি। ছেলেটিকে আমি ঘুম পাড়িয়ে রেখেছি, কোনো ক্ষতি করা হবে না।

এদিকে কয়েক স্থানীয় সাংবাদিক অভিযুক্ত সোহানের বাড়িতে গেলে তার ‘ভাই’ পরিচয়ে এক ব্যক্তি বলেন, সেলিমের কাছে টাকা পাবে—এমন ব্যক্তিদের একজনের বাড়িতেই ছেলেটিকে রাখা হয়েছে। পুলিশের পরামর্শেই তারা ছেলেটিকে জিম্মি করে রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি। সমঝোতা হলে থানায় বসে সমাধান হবে। তবে চারঘাট থানার ওসি মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোন পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগী সেলিম হোসেনের মুংলী বাজারে ‘সেলিম স্টোর’ নামে ইলেকট্রনিকসের দোকান ছিল। তিনি বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে শোধ না করায় গত ফেব্রুয়ারিতে সপরিবারে রাতের আঁধারে আত্মগোপনে চলে যান। তার বর্তমান অবস্থান কেউ জানে না। গত এপ্রিলে ছেলের এসএসসি পরীক্ষা ছিল, তবুও সে পরীক্ষা দিতে পারেনি।

সেলিমের মা হোসনে আরা জানান, ছেলে বাড়ি ছাড়ার পর ৫–৭ জন লোক এসে কেউ পাঁচ লাখ, কেউ আট লাখ টাকা পাওয়ার দাবি করেন। তিনি নাতিকে উদ্ধারের জন্য গেলে তাকে নাতির জিম্মা দেওয়া হয়নি।

Related Articles

Back to top button