শীতের হাওয়া হঠাত্ ছুটে এলো…

অনলাইন ডেস্ক: বাতাসে এখন হিম হিম স্পর্শ। শিশির ভেজা ঘাসের ডগায় মুক্তোর দানা। সন্ধ্যা-সকাল কুয়াশার চাদর মুড়ে দিচ্ছে চারপাশ। ভোরের কাঁচা রোদ, মৃদু হিম স্পর্শ প্রাণে শিহরণ তুলছে। প্রকৃতিতে শীতল পরশ নিয়ে আসছে শীত। পৌষ-মাঘ শীতকাল হলেও অগ্রহায়ণ হলো শীতের মোহনা। এ সময় রিক্ত প্রকৃতিকে আমরা নতুন করে আবিষ্কার করি। এক অদ্ভূত আচ্ছন্নতা ঘিরে রাখে। দিনের সূর্য ঢেলে দিচ্ছে মায়াবি রোদ। রাতের আকাশে বুকভরা রূপালি তারাখচিত শুভ্রতা। চাঁদের ধবধবে দুধ সাদা জোছনা। পূর্ণিমা চাঁদ হয়ে ওঠে যেন শিশির ধোয়া রূপার থালা।
খালবিল থেকে সবে বর্ষার জল শুকাতে শুরু করেছে। আকাশে ছন্নছাড়া নীল মেঘের ভেলা। কাঁশবনের শন শন শব্দ আর পাখপাখালির কিচিরমিচিরে জনপদ মুখর। পরাণে তীব্র শীস দেয় কোনো এক আকুলতা। গ্রামাঞ্চলে শুরু মাছ ধরার উত্সব। এই এখন হেমন্তের আবহাওয়া বলে দিচ্ছে শীত আসছে। আসছে নবান্ন।
ষড়ঋতুর বাংলাদেশে শীত পঞ্চম ঋতু। শীতকাল অন্য ঋতুগুলোর চেয়ে একেবারেই আলাদা। শরতের স্নিগ্ধতা ও স্বচ্ছতা পেরিয়ে আসে ঋতুরাণী হেমন্ত। নবান্নের এ ঋতুর হাত ধরেই আসে শীতকাল। মাঠে মাঠে সোনালি ধান গোলায় ভরার উত্সবে মেতে থাকা মানুষের শরীরে লাগে শীতের কাঁপন। নতুন ধানের পিঠা-পায়েস নিয়ে সকালের মিঠে রোদ্দুরে পিঠ ঠেকিয়ে রসনা তৃপ্তি শীতের সে এক অন্যরকম অনুভূতি। খেজুরের মিষ্টি রসের হাঁড়িতে পাটকাঠি ডুবিয়ে গ্রামের ছেলেমেয়েদের চুকচুক করে রস খাওয়ার সেই দৃশ্য আজও বদলায়নি। বদলায়নি বাঙালির সেই অতিথিপরায়ণ মন-মানসিকতা।
খেজুরের রস, পাটালি গুড়, কোঁচাভর্তি মুড়ি-মুড়কি, পিঠা-পায়েস, খড়-পাতার আগুন তাপানো, গমের খেতে পাখি-তাড়ানো, লেপ-কম্বলের উত্তাপ, কুয়াশাঢাকা ভোরে ও সন্ধ্যায় আনন্দ-কষ্টের মিশেল নিয়ে আমাদের জীবনে শীতকাল উপস্থিত হয়। শীতের মিঠেরোদ, কুয়াশার চাদর, উঠোনের কোণে মাটির চুলায় রান্না, চুলার পাশে বসে বসে হাতের তালু গরম করে নেওয়া, পিছিয়েপড়া মানুষগুলোর উদাম শরীরের শিরশির কাঁপুনি, চায়ের কাপের সাদাটে ধোঁয়া, হলুদের ডালি বিছানো সর্ষের মাঠ—এসব ছবি আর ছবির পেছনের গল্প আমাদের কাছে খুব বেশি চেনা। আর আছে গ্রামের স্কুলমাঠে যাত্রা-সার্কাস-অপেরায় মাতোয়ারা সব রাত। হিম হাওয়ায় ঠান্ডা-কাশি তো আছেই। শীতকে কেউ ভেবেছেন উত্সব, কেউ-বা মৃত্যু। অনেকে হতাশা ও আশাহীনতার কাল হিসেবে বিবেচনা করেছেন শীতকে। শীতপ্রধান দেশগুলোতে ‘এক শীত পেরোলে আরেক জীবনের সম্ভাবনা’কে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
তবে সামপ্রতিক বছরগুলোতে পঞ্জিকার অনুশাসন মানছে না আর প্রকৃতি। শীত-গ্রীষ্মকে আলাদা করে চেনা কঠিন হয়ে উঠছে। শীত জেঁকে বসতে না বসতেই বসন্ত এসে প্রকৃতিকে অধিকার করে নিচ্ছে। গ্রিনহাউজ এফেক্টের কারণে প্রকৃতিতে প্রকৃতি আর স্বাভাবিক থাকছে না। যেমন- গ্রীষ্মে গরমের তীব্রতা বাড়ছে। বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি বেড়ে গেছে। শীতেও শীতের তীব্রতা অথবা উষ্ণতা বেড়েছে।
শীত ঋতু বাঙালির জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। এর আবেদন চিরন্তন। শীতের প্রচণ্ড দাপট কখনো কখনো ক্ষণিকের জন্য আমাদের জীবনকে আড়ষ্ট করে তুললেও বাড়িয়ে দেয় মনের সজিবতা। ভোরের শিশিরে স্পর্শে যেমন আমাদের দিন শুরু হয়, শেষ হয় আবার শিশিরের স্পর্শেই। যারা কিছুটা বেশি শীতকাতুরে তাদের কাছে না হলেও অধিকাংশ মানুষেরই প্রিয় ঋতু হলো শীত।
শীতকালে আমাদের পোশাক সংস্কৃতিতেও আসে অনেক পরিবর্তন। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচার জন্য মানুষজন তখন পরিধান করে গরম পোশাক। ছেলে বুড়ো সবাই গরম কাপড়ে গা ঢেকে শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করে। তবে শহরে কি গ্রামে দরিদ্র মানুষের জীবনে শীত আসে অভিশাপ হয়ে। শীত নিবারণের জন্য থাকে না তাদের তেমন গরম পোশাক। হতদরিদ্রের এ কষ্ট উপলব্ধি করেই হয়তো কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য লিখেছিলেন এই মর্মস্পর্শী কবিতাটি-‘হে সূর্য, তুমি তো জানো/আমাদের গরম কাপড়ের কত অভাব/সারারাত খড়কুটা জ্বালিয়ে/এক টুকরো কাপড়ে কান ঢেকে/কত কষ্টে আমরা শীত আটকাই..।’
সাহিত্যে শীত :বাংলা কবিতায় শীত প্রবেশ করেছে মধ্যযুগে বিশেষ করে মঙ্গলকাব্যে নায়িকার বারো মাসের কষ্ট বর্ণনার অনিবার্য পরিসরে। ষোড়শ শতকের কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বলেছেন :‘পউষের প্রবল শীত সুখী যেজন।/ তুলি পাড়ি আছারি শীতের নিবারণ / ফুল্লরার কত আছে কর্মের বিপাক।/ মাঘ মাসে কাননে তুলিতে নাহি শাক…।’ পরবর্তীকালে আধুনিক কবিরাও শীতকালের বন্দনা করেছেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন :‘শীতের হাওয়া হঠাত্ ছুটে এলো।/ গানের হাওয়া শেষ না হতে।/ মনে কথা ছড়িয়ে এলোমেলো।/ ভাসিয়ে দিল শুকনো পাতার স্রোতে।’ জসীম উদ্দীনের ‘রাখাল ছেলে’ কবিতায় শীতকে আমরা পাই আমাদের একান্ত নিজস্ব ঋতুরূপে। ‘ঘুম হতে আজ জেগেই দেখি শিশির-ঝরা ঘাসে,/ সারা রাতের স্বপন আমার মিঠেল রোদে হাসে…।’ প্রকৃতির কবি, রূপসী বাংলার রূপকার জীবনানন্দ দাশ ‘শীতরাত’ কবিতায় লিখেছেন :‘এইসব শীতের রাতে আমার হূদয়ে মৃত্যু আসে;/ বাইরে হয়ত শিশির ঝরছে, কিংবা পাতা।’ তার কবিতায় ঘুরে ঘুরে আসে ‘পউষের ভেজা ভোর’, ‘নোনাফল’, ‘আতাবন’ ‘চুলের ওপর তার কুয়াশা রেখেছে হাত’, ‘ঝরিছে শিশির’, ‘পউষের শেষরাতে নিমপেঁচাটি’। শামসুর রাহমানের ‘রূপালি স্নান’, ‘তার শয্যার পাশে’ কবিতা দুটিতে আছে শীতের অনুষঙ্গ। কবি আল মাহমুদ লিখেছেন :‘কখনো ভোরের রোদে শিশিরের রেনু মেখে পায়/ সে পুরুষ হেঁটে যায় কুয়াশায় দেহ যায় ঢেকে।’
শীতের পিঠা-পুলি :বাঙালির শখের পিঠা পুলি শুধু স্বাদে নয়, এগুলো সংস্কৃতিরও ধারক। পিঠার খাঁজে খাঁজে ফুলে ওঠে নিবিড় শিল্প নৈপুণ্য, নামেরও বাহার! পাটিসাপটা, দুধকলি, ভাজাকলি, নারিকেলী, ভাপা, চিতই নকশীপিঠা ইত্যাদি। খেজুর রসে ভেজানো পিঠা কার রসনাকে উসকে দেয়। বিশেষ করে ভাপাপিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। ধোঁয়া ওঠা গরম ভাপাপিঠা দেখে জিভে পানি এসে যায়। আতপ চালের গুঁড়ো, গুড় ও নারকেল সহযোগে তৈরি করা হয় ভাপাপিঠা। রসের সঙ্গে দুধ মিশিয়ে বানানো হয় রসের পিঠা। এছাড়া চিতই, দুধচিতই, বড়াপিঠা, পাটিসাপটা, দুধপুলি, ক্ষীরপুলি, চন্দ্রপুলি প্রভৃতি পিঠার বেশ প্রচলন রয়েছে। এক সময় পিঠা ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, কালের বিবর্তনে এখন তা শহরের বিলাসী খাদ্যে নাম লিখিয়েছে। ফুটপাত থেকে নামিদামি খাদ্যভান্ডারে দেখা যায় পিঠার বিশেষ মেন্যু, বিশেষত শীতকালে। এক সময় পিঠার পাশাপাশি মোয়া, মুড়কি, লাড্ডু, বরফি ছিল প্রায় অনিবার্য পদ। তবে বাঙালির খাদ্য রুচিতে বাস্তবিকই একটি স্বাতন্ত্র্যরূপ দিয়েছে শীতকালের খেজুরের রস। সন্ধ্যা কিংবা ভোরবেলায় টলটলে খেজুরের রস পানের ঐতিহ্য এদেশে প্রাচীন, তা থেকে ঘন করে জ্বাল দেওয়া চৌরস দিয়ে শীতের সকালে মুড়ি খাওয়া গ্রামবাংলার চেনা দৃশ্য। আরেক বস্তু খেজুরের পাটালি। কে না জানে যশোরের নলেন গুড়ের নাম? শীতের খাবার সে তো ইতিহাস! শীতে জমে থাকা মাছের ঝোল, মাষকালাইয়ের ডাল আর কড়কড়ে ভাতের স্বাদ গ্রামবাংলার জনপ্রিয় খাবার। হরেক রকম তরতাজা সবজি শীতের খাবার-দাবারে স্বভাবতই যোগ করে ভিন্ন স্বাদ।
শাকসবজির প্রাচুর্য :আমাদের দেশে শীতকাল মানেই গ্রামের বিস্তীর্ণ জমিতে শীতকালীন শাক সবজি ক্ষেতের দৃশ্য চোখে পড়ে। বছরের অন্য সময় বাজারে টাটকা সবজি কম পাওয়া গেলেও শীতকালে বাজারে প্রচুর পরিমাণ শীতকালীন শাকসবজি পাওয়া যায়। এ সময় বাজার ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাঁজর, শিম, ঢ্যাঁড়শ, বেগুন, টম্যাটো, মিষ্টি কুমড়া, করলা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, আলু, বরবটিসহ নানা শীতকালীন সবজিতে ভরপুর থাকে। পালং শাক, মুলা শাক, লাল শাকসহ নানা জাতের টাটকা শাকও পাওয়া যায় বাজারে। শুধু শাকসবজি নয় শীতের মৌসুমে আমাদের দেশে উত্পাদিত কমলা, আপেল, ডালিম, আঙ্গুরসহ নানা রকমের ফলমূলও পাওয়া যায় দোকানে। তবে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান থেকেও প্রচুর ফলমূল আমদানি হয়ে থাকে এ সময়টাতে।
শীতে ফুলের বাহার :প্রকৃতিতে এখন শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। শিশিরভেজা এই সময়ে প্রকৃতিতে সৌরভ ছড়ায় শীতের ফুল। শীত মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে গোলাপ আর গাঁদা ফুলের চাষ হয়। গ্রামের খেতে শোভা পায় গোলাপ আর গাঁদার বাগান। আর নার্সারিগুলোতেও শীতকালীন ফুলে রঙিন হয়ে ওঠে। ফুলের দোকানগুলোতে শোভা পায় শীতকালীন নানা ধরনের ফুল। শীতের শিশিরস্নাত দেশি ফুলের মধ্যে মল্লিকা, ডালিয়া, নয়নতারা, মাধবীলতা, রঙ্গন, অলোকানন্দ, দোপাটি অন্যতম। দেশি ফুলের পাশাপাশি বিদেশি ফুলের মধ্যে শীতের প্রকৃতি রাঙিয়ে তোলে অস্ট্রেলীয় প্রজাতির স্ট্র ফাওয়ার, ছোট তারার মতো অস্টার, ক্যালেনডুলা, সুইটপি, লিউপিন, কারনেশন, ডায়ন্তাস, কসমস, মর্নিং গেস্নারি, ফকস, গ্যালাডিয়া, লার্কস্পারসহ নানা বিচিত্র ফুল। কবিগুরুর ভাষায়, ‘ফুলগুলি যেন কথা/ পাতাগুলো যেন চারিদিকে তার/ পুঞ্জিত নীরবতা’
শীতের দুর্ভোগ শৈত্যপ্রবাহ :শীতের সময় তুমুল শৈত্যপ্রবাহ মানুষের জীবনে বয়ে আনে দুর্ভোগ। আমাদের দেশে শীত মৌসুমে শৈত্যপ্রবাহের সময় টানা কয়েক দিন সূর্যের দেখা মেলে না। সড়কে গাড়ি চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। অনেক সময় ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে। মাঘ মাসের তীব্র শীতের দিনগুলোতে এই দৃশ্য চোখে পড়ে। এ সময় তাপমাত্রা অস্বাভাবিকহারে কমে যায়। রাতে সড়ক বাতিগুলোর আলো কুয়াশায় দেখা যায় না। এ সময় তীব্র শৈত্যপ্রবাহে অনেকের মৃত্যু ঘটে। আমাদের দেশে উত্তরাঞ্চলসহ কয়েকটি জেলায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা যায়। এ সময় খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নেমে আসে।
পরিযায়ী পাখির ভিড় :উত্তর গোলার্ধ অর্থাত্ বরফে আচ্ছাদিত দেশসমূহে হিমবাহের তীব্রতা বেশি থাকায় তাপমাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে কমে যায়। বরফে মাঠ-ঘাট ঢাকা থাকার ফলে পাখিদের আশ্রয়স্থলটুকু হারিয়ে যায় তাই জীবনের সন্ধানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নানা প্রজাতির পাখি ক্লান্তিহীনভাবে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে নির্মল সুখ আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে এ বাংলার প্রত্যন্ত জনপদের নদনদী, খালবিল, হাওর, ঝিল, জলাশয় ও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে। শীত মৌসুম শুরু হলেই অতিথি পাখির আনাগোনায় মুখরিত হয়ে ওঠে বাংলার প্রত্যন্ত জনপদের নদনদী, খালবিল, হাওর, ঝিল, জলাশয় ও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। এ সময় অতিথি পাখির গুঞ্জনে গ্রাম বাংলা জেগে ওঠে নতুন রূপে। পাখিরা প্রতি বছর অগ্রহায়ণের শেষে ও পৌষ মাসের শুরুর দিকে হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে আমাদের দেশে আসতে শুরু করে। এদের মধ্যে নীলশির, লালশির, কালো হাঁস, লেনজা হাঁস, খুদে গাংচিল চুটকি, ফুটকি ও লেঙ্গাসহ প্রায় ১৫০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসে বলে এই পাখিগুলোকে অতিথি পাখি বলা হয়। শীত জুড়েই থাকে অতিথি পাখিদের বিচরণ। এ দেশের নদনদী, হাওর-বাঁওড় যেন এদের নিরাপদ আশ্রয়। আমাদের দেশে দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দরবন, সুনামগঞ্জের হাওর, মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর, সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা চিড়িয়াখানার জলাশয়গুলোসহ গোপালগঞ্জ, খুলনা ও যশোরের বিল, চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, পার্বত্য এলাকাসহ কয়েকটি উপজেলায় অতিথি পাখির বিচরণ চোখে পড়ে। বর্তমানে আমাদের দেশে মানবসৃষ্ট নানা কারণে অতিথি পাখির বিচরণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। কিছু মানুষের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে অতিথি পাখির ওপর। জালের ফাঁদ পেতে, বিষটোপ ও ছররা গুলি দিয়ে নির্বিচারে চলছে পাখি নিধন।
বেড়ানোর মাহেন্দ্র সময় :প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশের পর্যটন এলাকাগুলো মুখরিত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে সারা বছর পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত থাকলেও শীত মৌসুমে কক্সবাজারে পর্যটকদের আনাগোনা আরো বেড়ে যায়। পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা এই মৌসুমটার জন্য অপেক্ষায় থাকে। হোটেল মোটেলগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। ইনানী বিচ আর সেন্ট মার্টিনও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। মুখর থাকে কুয়াকাটা। এখানে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দুটিই উপভোগ করতে পারবেন। ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতেও পর্যটকদের আনাগোনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। রাখাইন বৌদ্ধ মন্দির, শুঁটকি পল্লি, ঝাউবন আর নারিকেল বাগানের অপার সৌন্দর্য আপনাকে দেবে অনাবিল আনন্দ। আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় আর লেকের হাতছানি। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ির পর্যটনস্পটগুলো শীত মৌসুমে হয়ে উঠে মুখর। রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই জুম রেস্তোরাঁ, কাপ্তাই পিকনিক স্পট, রাঙ্গামাটি রাজবাড়ি, শুভলং ঝরনা, ঝুলন্ত ব্রিজ, বান্দরবানের মেঘলা পর্যটন এলাকা, নীলগিরির সৌন্দর্য, স্বর্ণ মন্দির, নীলাচল আর খাগড়াছড়ির পাহাড়ি ঝরনা আর আলুটিলা সুরঙ্গ ভ্রমণকে করে তুলবে পরিপূর্ণ। শীত মৌসুমে পর্যটকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন ট্যুরিজম সংস্থা দেশ-বিদেশের দর্শনীয় জায়গাগুলোতে প্যাকেজ ট্যুরের আয়োজন করে থাকে।
শীতে রোগ বালাইয়ের প্রকোপ :শীতকাল উপভোগ্য হলেও এই মৌসুমটাতে নানা রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে ঠান্ডাজনিত নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয়। এ সময়টাতে শরীরের প্রতি বাড়তি যত্ন নিতে হয়। যাতে ঠান্ডাজনিত রোগব্যাধি থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যায়। এ সময় সর্দি-কাশি, গলায় খুশখুশ ভাব, নাক বন্ধ হওয়া, নাক দিয়ে অনবরত পানি ঝরা এবং ঘন ঘন হাঁচি, ভাইরাসজনিত জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, দুর্বল লাগা ও ক্ষুধামন্দাসহ অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়। শীতকালে নাক, কান ও গলায় বিভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে। সাইনাস, কান ও টনসিলের প্রদাহও বাড়ে, যেমন গলাব্যথা, ঘন ঘন সাইনোসাইটিস, টনসিলাইটিস, অটাইটিস ইত্যাদি। শীতে ত্বক শুষ্ক হয়, ত্বক ফেটে যায় এবং একজিমা, চুলকানি, স্ক্যাবিসের মতো চর্মরোগ দেখা দেয়।




