যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন, দয়া করে নির্বাচনের বিরোধিতা করবেন না: ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক: একটি মহল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যারা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন, তারাই এখন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরোধিতা করছেন।

গতকাল শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভার শুরুতেই মির্জা ফখরুল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি স্মরণ করেন ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আ স ম আবদুর রব ও জাসদের সাহসী ভূমিকার কথা।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দয়া করে জনগণকে আর বিভ্রান্ত করবেন না। একাত্তরে আপনারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন, এখন দয়া করে জনগণের নির্বাচনের বিরোধিতা করবেন না। এই দেশের মানুষ কখনো কোনো যারা বেশি করে তাদেরকে ক্ষমা করেন তারা ক্ষমা পায় না সুতরাং ওখান থেকে সরে আসুন নির্বাচন করুন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের মতামত প্রতিষ্ঠিত হোক।’

তিনি বলেন, ‘আমি খুব পরিষ্কারভাবে বলছি যে, আমরা নির্বাচন করব, নির্বাচন করতে চাই এবং আমরা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেই ঘোষণার সঙ্গে একমত হয়ে আমরা নির্বাচন চাই।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সেই নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য একটা মহল উঠেপড়ে লেগেছে। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন কথাবার্তা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, গণভোট নির্বাচনের আগে করার কোনো সুযোগ এখন আর নাই। নির্বাচনের দিন গণভোট হবে, সে কথা আমরা পরিষ্কার করে বলেছি। সেখানে দুটো ব্যালট থাকবে—একটি গণভোটের জন্য, আরেকটি হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য। সুতরাং, এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত কেউ করবে বলে আমি অন্তত মনে করি না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজকে যারা এ নিয়ে গোলমাল করছেন, রাস্তায় নেমেছেন, তাদের অনুরোধ করব, জনগণকে অনেক বিভ্রান্ত করে অনেক কিছু করেছেন। সেগুলো আমি বলতে চাই না। একসময় এই দেশের সব মানুষের চাহিদা ছিল পাকিস্তান স্বাধীন (হোক), আপনারা সেটার বিরোধিতা করেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। আজকে দয়া করে জনগণ যে নির্বাচন চায়, সে নির্বাচনের বিরোধিতা করবেন না।’

Related Articles

Back to top button